পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের আবাসিক এলাকায় ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। সদ্য জন্ম নেওয়া আটটি ছানাসহ এক মা কুকুর আশ্রয় নিয়েছিল মানুষের ঘরের পাশে। সেখানে আরেকজন মানুষ তাকে নিয়মিত খাবার দিতেন, খেয়াল রাখতেন নিরাপদ আশ্রয় ভেবেই মা কুকুরটি সেখানে ছানাদের নিয়ে দিন কাটাচ্ছিল মমতায়, নিশ্চিন্তে। কিন্তু সেই আশ্রয়ই একসময় পরিণত হয় মৃত্যুকূপে। কুকুরছানাগুলোর স্বাভাবিক ডাক মানুষের কানে বিরক্তি হয়ে পৌঁছায়। নিজের সন্তানের কান্না স্নেহের, আর প্রাণীর কান্না বিরক্তিকর এমন অদ্ভুত মানসিকতা থেকেই জন্ম
নেয় ভয়ংকর নিষ্ঠুরতা। আপদ” মনে করে মানুষের সন্তান নয়, কুকুরছানাদেরই বেছে নেওয়া হয় শাস্তির লক্ষ্য হিসেবে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিশি রহমান নামে এক নারী আটটি কুকুরছানাকে একটি বস্তায় ভরে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেন। চোখের সামনে সন্তানদের হারিয়ে অসহায় মা কুকুরটি শোকে পাগলপ্রায় হয়ে খুঁজতে থাকে তার বাচ্চাদের। দয়া, সহমর্মিতা কিংবা মানবিকতার সামান্য ছোঁয়াও স্পর্শ করেনি অপরাধীর মনকে। উল্লেখ্য, এই কুকুর গুলোর খাবারের দায়িত্বে ছিলেন সদ্য বিদায়ী ইউএনও সুবীর কুমার দাস। বদলি হলেও তিনি তাদের দেখভালের ব্যবস্থা করে গিয়েছিলেন দূর থেকেই। কিন্তু তার অনুপস্থিতিতে ঘটলো অবিশ্বাস্য নিষ্ঠুরতা। অভিযুক্ত নারী নিশি রহমান ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী। ঘটনার পরপরই অভিযুক্তদের সরকারি বাসভবন ছাড়ার নির্দেশ ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে নয়ন গণমাধ্যমকে জানান, তিনি ক্ষমা চেয়েছেন” এবং তার স্ত্রীকে “বকে দিয়েছেন, যেন আটটি নিরীহ প্রাণকে হত্যা করা এমন এক ভুল, যার শাস্তি কেবল বকা, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা বাংলাদেশে নতুন নয়। প্রাণীদের পুড়িয়ে মারা, ফাঁসি দেওয়া, চোখ তুলে ফেলা, উঁচু থেকে ফেলে দেওয়া