গাজীপুরে (বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫) খাদ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্ভিদজাত উপাদান ও প্রাকৃতিক রঙ ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব স্মার্ট প্যাকেজিং তৈরির লক্ষ্যে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন অডিটোরিয়ামে হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের অর্থায়নে আয়োজিত এ কর্মশালাটি তত্ত্বাবধান করেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও সহকারী অধ্যাপক ড. মোঃ নাহিদুল ইসলাম। কর্মশালার উদ্বোধন হয় আজ সকাল ১১টায়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন হিট প্রকল্পের পরিচালক প্রফেসর ড. আসাদুজ্জামান, বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ। এছাড়াও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ গুলজারুল আজিজ এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোঃ সাজ্জাত হোসেন সরকার বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত থেকে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও গবেষণা অভিমত তুলে ধরেন।স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোঃ এমদাদুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ড. মোঃ নাহিদুল ইসলাম, যেখানে তিনি খাদ্যের সতেজতা ও গুণমান পর্যবেক্ষণে প্রাকৃতিক পলিস্যাকারাইড ও রঙ ব্যবহারের মাধ্যমে সেন্সরভিত্তিক প্যাকেজিং প্রযুক্তি উন্নয়নের বিস্তারিত উপস্থাপন করেন। প্রবন্ধ শেষে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা স্মার্ট প্যাকেজিং প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও শিল্পখাতে প্রয়োগ নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আসাদুজ্জামান বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা হ্রাস করে দেশের মধ্যেই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং প্রযুক্তি তৈরি সম্ভব। সমাপনী বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা এখন শুধু পুষ্টি নয়, পরিবেশের সুরক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত। আমাদের গবেষণা যেন প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেকসই সমাধান দেয়, সেই লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করছে। তিনি আরও যোগ করেন, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির পেটেন্ট অর্জন ও ভোক্তা পর্যায়ে নিরাপদ ও সুলভমূল্যে তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজিত এ কর্মশালাটি শুধু একটি গবেষণা উদ্যোগ নয়, বরং খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।