উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অযথা প্রশ্ন করে শিক্ষকদের হয়রানি করে যাচ্ছে গণমাধ্যমকর্মী পরিচয়ধারী জনৈক হাসনাত উল্লাহ। অভিযুক্ত হাসনাত উল্লাহ কখনো গণমাধ্যম কর্মী অথবা কখনো কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে বিভিন্ন মহলে পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে । গাজীপুর মহানগরের ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরজমিনে গেলে এমন অভিযোগের সত্যতা মেলে। খালিশাবর্থা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গাজীপুর মহানগরের কাউলতিয়ার অদূরে তুরাগ নদী ঘেষা এই বিদ্যালয়টি রয়েছে দীর্ঘদিনের এক পরিত্যক্ত ভবন। নানান সমস্যায় জর্জরিত এই বিদ্যালয়। সমস্যা মেনেই শিক্ষক-শিক্ষিকারা পাঠদান করছেন নিয়মিত। সদর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়মিত পরিদর্শন করেন ওই বিদ্যালয়টিতে। বর্তমানে ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকায় পৃথক ওই ভবনে হচ্ছে না ক্লাস। অথচ অভিযুক্ত ওই গণমাধ্যম কর্মী" হাসনাত উল্লা শিক্ষকদেরকে অনেকটা হুমকি দিয়ে বললেন, ওই ভবনে ক্লাস নিচ্ছেন না কেন ?, বস্তা রেখেছেন কেন? ভবন খোলা কেন ? ভবনে কেউ মার্ডার করে কাউকে ফেলে রাখলে আপনারা শিক্ষক হয়ে কি জবাব দিবেন ? এমন আজগুবি প্রশ্নের মুখে শিক্ষক-শিক্ষিকারা বিব্রত হন। স্কুলে ক্লাস চলাকালীন ওই গণমাধ্যম কর্মী পরিচয়ধারী হাসনাত উল্লাহ ছাত্র ছাত্রীদেরকে ক্লাস থেকে ডেকে নিয়ে এসে নানান প্রশ্ন করেন। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।বিতর্কিত গণমাধ্যমকর্মী পরিচয়ধারী ওই হাসনাত উল্লাহ শিক্ষকদেরকে একটি ভিজিটিং কার্ড হাতে তুলে দিয়ে যোগাযোগ করতে ও "আপ্যায়ন" করতে বলেন। অভিযুক্ত হাসনাত উল্লাহর বিরুদ্ধে আশেপাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকারা অনুরূপ অভিযোগ উত্থাপন করেন এ প্রতিনিধির নিকট। খবর নিয়ে জানা যায় অভিযুক্ত হাসনাত উল্লাহ গাজীপুর নিউজ ২৪ নামক একটি গ্রুপের পাবলিশার। আসলে সে গণমাধ্যম কর্মী নয়। ওই কার্ডে গাজীপুর শহরের ঠিকানা উল্লেখ থাকলেও ওই ঠিকানার আশেপাশের কেউ তাকে চেনেন না। ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি তাকে। সদর উপজেলার একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শাহজাহান মাস্টার বললেন, এমন বিতর্কিত গণমাধ্যম কর্মী বা কনটেন্ট ক্রিয়েটররা চাঁদাবাজি করছে সুযোগ বুঝে। কামাচ্ছে অবৈধ টাকা। অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন তুলে বক্তব্য নেয়ার অধিকার তাদের নেই। উপজেলা সদরের অফিস থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারে প্রকৃত কোন গণমাধ্যম কর্মী। তিনি আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিউ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তারা প্রবেশ করে ভিডিও ধারণ করেন। কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং সহজ সরল শিক্ষকদেরকে অযথা জুড়ে দেন অপ্রাসঙ্গিক নানান প্রশ্ন। এমন ভিডিও ধারণ ও তা প্রচার করার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন প্রয়োগ করা দরকার বলে অভিমত দেন ওই অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক। শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে।বিদ্যালয় কমিটির সদস্যদের সহযোগিতা নিয়ে ওই রকম ভিডিও ধারণকারীদেরকে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া ঠিক হবে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষক শিক্ষিকা জানান, গণমাধ্যম কর্মী পরিচয়ধারী হাসনাত উল্লাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ভিডিও আপলোড দিয়েছে তা যেন সরিয়ে নেন। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিকট উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেন।