গাজীপুরের গ্রামাঞ্চলে এখন গাছে গাছে ঝুলছে কাঁঠাল। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে চাষি, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা খুশি। জেলার কাপাসিয়া , সদর , শ্রীপুর কালিয়াকৈর ও কালীগঞ্জ উপজেলার গ্রাম জনপদের হাট-বাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে এবং লাভবান হচ্ছেন পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে, বাড়ির আঙিনায় এবং বাগানে থাকা বৃহদাকার কাঁঠাল গাছগুলো ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে । স্থানীয়দের মতে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ফলন অনেক বেশি হওয়ায় বাজারে কাঁঠালের সরবরাহও বেড়েছে। সদর উপজেলার পূর্ব ডগরি এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা মিয়া ও সুরুজ মিয়া জানান, তারা প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গাছ থেকে কাঁঠাল কেটে সংগ্রহ করেন। এরপর সেগুলো ভ্যানে করে স্থানীয় মির্জাপুর মনিপুর তালতলী ও জঙ্গলবাড়ি হাট-বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন। কাঁঠাল বিক্রি করে তারা ভালো আয় করছেন। মোস্তফা মিয়া বলেন, “এবার কাঁঠালের ফলন খুব ভালো হয়েছে। প্রতিদিন অনেক কাঁঠাল বিক্রি করতে পারছি। এতে সংসারের খরচ মেটাতে সুবিধা হচ্ছে। মাঝারি আকারের একটি কাঁঠাল ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও বড় আকৃতির একটি কাঁঠাল৬০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি করতে পারছেন বলে ওই মোস্তফা মিয়া জানান। সুরুজ মিয়া বলেন, সারাদিন কাঁঠাল কেটে বিকেলে ভ্যানে কাঁঠাল নিয়ে বাজারে বিক্রি করি।মিলকারখানার অল্প আয়ের শ্রমিকরা অল্প দামে কাঁঠাল কিনে নেন। নিজের গাছের কাঁঠাল ছাড়াও অন্যের গাছের কাঁঠাল কিনে তিনি বিক্রি করছেন। সুরুজ মিয়া জানালেন, "ছোট আকৃতির কাঁঠাল ১৫ টাকা থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি করি। জেলার বিভিন্ন কাঁঠালের হাটে পাইকাররা দূর-দূরান্ত থেকে এসে কাঁঠাল কিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাচ্ছেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, গাজীপুরের মাটি ও আবহাওয়া কাঁঠাল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সুস্বাদু ও মিষ্টি স্বাদের কারণে গাজীপুরের কাঁঠালের চাহিদা সারা দেশেই রয়েছে। বাম্পার ফলনের কারণে এ বছর চাষি ও ব্যবসায়ীরা ভালো লাভের আশা করছেন। কাঁঠালের মৌসুম ঘিরে গাজীপুরের গ্রামাঞ্চলে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। পুরনো দিনে নৌকায় নদীপথে গাজীপুর থেকে অন্যত্র কাঠাল পাঠানো হতো। বর্তমানে সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন থাকায় ট্রাক-লোরি ও অন্যান্য যানবাহনে গাজীপুর থেকে পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ কুমিল্লা টাঙ্গাইল রাজধানীতে শত শত গাড়ি কাঁঠাল নিয়ে যাচ্ছে। গাজীপুর সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান আকন্দ জানান, এবার বাম্পার ফলন হলেও স্থানীয় বাজারগুলোতে কাঁঠালের দরদাম মন্দা নয়। কাঁঠালের বিচিও বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে হাটে বাজারে যা প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিকোয়। জেলা থেকে জেলার বাইরে কত টন কাঁঠাল রপ্তানি হয় তার সঠিক হিসেব নেই বলেও তিনি জানান। সদর উপজেলার স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কলেজের কৃষিবিভাগের অধ্যাপক ডক্টর জেবুন্নেসা বললেন, কাঁঠাল উৎপাদনে শীর্ষে গাজীপুর যার ঐতিহ্য এখনো রয়েছে। গাছে গাছে নানান রঙের নানা আকৃতির সুস্বাদু এই কাঁঠালের খ্যাতি গাজীপুর এর বাইরেও রয়েছে।