প্রকৃতি, সংস্কৃতি আর স্মৃতির অপূর্ব মেলবন্ধনে আজ গাজীপুরের পিরুজালী ইউনিয়ন হয়ে উঠেছে এক অনন্য বিনোদনের ঠিকানা। সবুজে ঘেরা গাছপালা, পাখির কিচিরমিচির ডাকে আর শান্ত পরিবেশ যেন ক্লান্ত নগরজীবনে এনে দেয় এক টুকরো প্রশান্তির ছোঁয়া। রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিলেই চোখে পড়ে মনোমুগ্ধকর এই অঞ্চল যেখানে প্রকৃতি কথা বলে, বাতাসে ভেসে আসে স্মৃতির সুর। পিরুজালী এলাকার হৃদয়ে অবস্থিত নুহাশ পল্লী স্মৃতি জাদুঘর, যেখানে শুয়ে আছেন বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি নাট্যকার ও সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। তাঁর সৃষ্ট নুহাশ পল্লী যেন আজও গল্প বলে বৃষ্টি, গাছ, পাখি আর ভালোবাসার। দেশি-বিদেশি অসংখ্য ভক্ত প্রতিদিন আসেন এখানে, প্রিয় লেখকের স্মৃতি ছুঁয়ে দেখতে, একটু নিঃশব্দে বসে থাকতে সেই মানুষটির ছায়ায়। নুহাশ পল্লীর পাশেই রয়েছে সরকারপাড়া আদুরী কুঞ্জ রিসোর্ট, যেখানে পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে একদিনের অবকাশ হয়ে ওঠে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। পাশাপাশি রূপসা রিসোর্ট (মাস্টারপাড়া, পিরুজালী) এবং বঙ্গবন্ধু পার্ক সহ আরও অনেক নতুন বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠছে এ এলাকায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ফলে প্রতিটি জায়গাই এখন পর্যটকদের প্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ঢাকা-চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে হোতাপাড়া হয়ে পশ্চিমে অল্প পথ গেলেই পৌঁছে যাওয়া যায় এই মায়াময় স্থানে। সবুজে ঘেরা পথ, খোলা আকাশ আর হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিবিজড়িত বাতাসে ভেসে বেড়ায় এক অনির্বচনীয় প্রশান্তি। গাজীপুরের পিরুজালী এখন শুধু একটি ইউনিয়ন নয় এ যেন প্রকৃতি, সাহিত্য ও মানুষের অনুভূতির এক জীবন্ত মিলনমেলা।