বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)-এর উদ্যোগে এবং নেত্রকোণা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় “বিএফআরআই কর্তৃক উদ্ভাবিত প্রযুক্তি পরিচিতি” বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (০৭ জানুয়ারি ২০২৬) নেত্রকোণা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বিএফআরআই-এর সিলভিকালচার রিসার্চ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ মিজান-উল-হক-এর সভাপতিত্বে এবং তথ্য প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ শাখার সিনিয়র রিসার্চ অফিসার মোঃ জহিরুল আলম-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাফিকুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলওয়াত করেন হাফেজ মোহাম্মদ বিল্লাল হোসাইন। পরে বিএফআরআই-এর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এরপর স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) মোঃ আরিফুল ইসলাম সরদারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তা, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, জেলা চেম্বারের প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক, নার্সারি মালিক, করাতকল ও ফার্নিচার মালিক এবং কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ স্ব-পরিচিতি প্রদান করেন। সকলকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিএফআরআই-এর কাষ্ঠ যোজনা বিভাগের রিসার্চ অফিসার সাদ্দাম হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাফিকুজ্জামান বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে পরিবেশ রক্ষা অত্যন্ত জরুরি এবং এর জন্য বন ও বন গবেষণার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রযুক্তি পরিচিতি কর্মশালার মাধ্যমে নেত্রকোণাবাসী বিএফআরআই-এর উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলো সম্পর্কে জানবে এবং সেগুলো বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে পারবে। জেলা চেম্বারের উদ্যোগে কাঠ ব্যবসায়ী, ফার্নিচার ও করাতকল মালিক সমিতিকে সম্পৃক্ত করে স্বল্প খরচে কাঠ সিজনিং ও ট্রিটমেন্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে বলে আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তিনি মোহনগঞ্জে বেত ও পাটিপাতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ আয়োজনের অনুরোধ জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, বন বিভাগ দেশের বনায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ কাজে বিএফআরআই-এর গবেষকরা তাঁদের মেধা ও শ্রম দিয়ে বন ও বনজ সম্পদভিত্তিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছেন, যা বন বিভাগসহ সাধারণ ভোক্তারা ব্যবহার করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, বন বিভাগ ও কৃষি বিভাগ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাই সুযোগ পেলে কৃষি বিভাগও বিএফআরআই উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সম্প্রসারণে সহায়তা করতে পারে। তিনি প্রতি উপজেলায় বিএফআরআই-এর নার্সারি প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি করে নার্সারি স্থাপনের প্রস্তাব দেন এবং সুন্দরবন অঞ্চলের লবণাক্ততা সহিষ্ণু ভ্যারাইটি উদ্ভাবনে বিএফআরআই-এর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা কাঠের ট্রিটমেন্ট, বাঁশ চাষ, বেরিবাঁধে উপযোগী গাছ, বিদেশি আগ্রাসী প্রজাতি প্রতিরোধ, গাছ কর্তনের আইনগত বিষয়, বন সংরক্ষণ ও জনবল সংকটসহ নানা প্রশ্ন ও মতামত উপস্থাপন করেন। বিএফআরআই ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা এসব প্রশ্নের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং বন আইন মেনে গাছ কর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনা শেষে বক্তারা বলেন, বন ও বনজ সম্পদ রক্ষায় গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে সরকারি-বেসরকারি সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কর্মশালাটি বনভিত্তিক গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা