ভৈরবকে জেলা ঘোষণার দাবিতে সম্প্রতি ভৈরবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। হরতাল, অবরোধ, মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ এসব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবেই দেখা যায়। যৌক্তিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সমাজের যে কোনো শ্রেণির মানুষ এমন কর্মসূচি পালন করতে পারে। দেশের জনগণও মনে করে, দাবিটি যুক্তিসংগত হলে সরকার তা বিবেচনা করবে এবং যথাসময়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। তবে দুঃখজনকভাবে, ভৈরবকে জেলা ঘোষণার দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নোয়াখালীগামী আন্তঃনগর ট্রেন উপকূল এক্সপ্রেস-এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। জানা যায়, ভৈরব এলাকায় ট্রেনটি দীর্ঘক্ষণ থামিয়ে রাখা হয় এবং বিক্ষুব্ধরা ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে। এতে মুমূর্ষু রোগী, বৃদ্ধসহ বহু যাত্রী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং কয়েকজন আহতও হন। এই ঘটনায় নোয়াখালীবাসীর পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। নোয়াখালীর মানুষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা ভৈরবের দাবির বিরোধিতা করে না, বরং সহিংসতা ছাড়া শান্তিপূর্ণ উপায়ে দাবি আদায়ের পক্ষে। এ প্রসঙ্গে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক, নোয়াখালী জেলা সমিতি ঢাকার ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক এবং নোয়াখালী বিভাগ আন্দোলন সমন্বয় কমিটির সদস্য ওমর ফারুক পাটোয়ারী বলেন, ভৈরবের জেলা ঘোষণার দাবি যৌক্তিক হতে পারে, কিন্তু নিরীহ যাত্রীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি নিচু মানসিকতার পরিচয়। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। তিনি আরও বলেন, দেশের যেকোনো অংশের মানুষের ন্যায্য দাবি আমরা সমর্থন করি। তবে সে দাবি যেন কখনও অন্য মানুষের নিরাপত্তা বা মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন না করে, সেই আহ্বান জানাচ্ছি। ওমর ফারুক পাটোয়ারী, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক, কেন্দ্রীয় কমিটি জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল।