গাজীপুরের শ্রীপুর রেঞ্জের রাথুরা বিট এলাকায় সংরক্ষিত বন থেকে গজারী গাছের কপিচ কেটে লাকড়ি তৈরি করে বিক্রির উদ্দেশ্যে স্থানীয় সাপ্তাহিক ভাওয়াল মির্জাপুর বাজারে নেওয়ার পথে কয়েকটি ভ্যানগাড়ি আটক করার পর মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
জানা যায়, বুধবার (৬ মে) সকালে রাথুরা বিট এলাকার প্যানশাল সংলগ্ন স্থান দিয়ে সকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে কয়েকটি ভ্যানগাড়িতে করে বন থেকে কাটা গজারী লাকড়ি বাজারে নেওয়া হচ্ছিল। এসময় সংবাদকর্মীদের নজরে বিষয়টি আসলে তারা শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করেন। পরে রাথুরা বিট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্যানগাড়িগুলো আটক করে রাথুরা বিট অফিসে নিয়ে যান। স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে আটককৃতদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে কোনো বৈধ মামলা ছাড়াই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আটককৃতদের মধ্যে মান্নান, নজরুল, নুর আলমসহ আরও কয়েকজনের নাম জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজনকে লাকড়িসহ এবং বাকিদের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
গাড়ি ছাড়াতে যাওয়া কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা বিট অফিসে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে খরচপাতি দিয়ে গাড়িগুলো ছাড়িয়ে নিয়ে এসেছি। এ বিষয়ে রাথুরা বিট কর্মকর্তা শেখ এমদাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। অন্যদিকে শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি সংবাদকর্মীকেই পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, “গাড়ি কি লাকড়িসহ ছাড়ছে নাকি লাকড়ি রেখে ছাড়ছে? আপনি কি ঘটনাস্থলে ছিলেন? স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, গাজীপুরের বনাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে বনভূমির গজারী গাছ কেটে উজাড় করছে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ বনজ সম্পদ। বাংলাদেশ বন আইন, ১৯২৭ অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটা, পরিবহন, মজুদ ও বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় এসব অপরাধের জন্য জেল-জরিমানা এবং ব্যবহৃত যানবাহন ও কাঠ জব্দ করার বিধান রয়েছে। এছাড়া সরকারি সম্পদ রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা দায়িত্বে অবহেলা বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশবাদী, সচেতন নাগরিক ও বন রক্ষা আন্দোলনের কর্মীরা।