বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নতুন যুগের সূচনা করেছে সরকার প্রণীত সংশোধিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন। এই আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বন অধিদপ্তর এর বন ভবনের করবী সম্মেলন কক্ষে পোষা বা ক্যাপ্টিভ হাতি নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক হাতির মালিক, মাহুত, সাংবাদিক ও প্রাণী অধিকারকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত বন বিভাগের কর্মকর্তারা অনলাইনের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন। সভায় বন বিভাগ জানায়, সম্প্রতি সরকার পুরনো বন্যপ্রাণী আইন সংশোধন করে নতুন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন করেছে। নতুন এই আইনে বন্যপ্রাণী বিশেষ করে হাতির সুরক্ষা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সভায় হাতির মালিকদের সামনে নতুন আইনের বিভিন্ন বিধিনিষেধ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। বন বিভাগের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, এখন থেকে ক্যাপ্টিভ হাতিকে দিয়ে সার্কাস প্রদর্শন, ভিক্ষাবৃত্তি কিংবা লগিং বা কাঠ টানার কাজ করানো যাবে না। আইন অনুযায়ী এসব কার্যক্রম হাতির প্রতি নির্যাতন হিসেবে গণ্য হবে এবং তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, হাতি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী সম্পদ। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে নির্যাতনমূলক ব্যবহার বন্ধ করা জরুরি। নতুন আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে হাতির প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা। সভায় অংশগ্রহণকারী প্রাণী অধিকারকর্মীরাও নতুন আইনকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এর কার্যকর বাস্তবায়নের দাবি জানান।