হাবিবুর রহমান,গাজীপুর: জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে গাজীপুর জেলায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৬৭৪ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। রোববার (২৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার ১ হাজার ৮৭টি কেন্দ্রে একযোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, অপুষ্টিজনিত জটিলতা প্রতিরোধ এবং দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় এ কর্মসূচিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১ হাজার ৮৭৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের গাজীপুর জেলার মোট জনসংখ্যা ৫৪ লাখ ২ হাজার ৭৯ জন। জেলার পাঁচটি উপজেলা, একটি সিটি করপোরেশন, তিনটি পৌরসভা ও ৩৮টি ইউনিয়নে একযোগে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এবারের কর্মসূচিতে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৭১ হাজার ১৩৫ শিশুকে একটি করে নীল রঙের (১ লাখ আইইউ) এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৯ শিশুকে একটি করে লাল রঙের (২ লাখ আইইউ) ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এ লক্ষ্যে জেলায় ৭২ হাজার ৫০০টি নীল এবং ৪ লাখ ৯১ হাজার লাল রঙের ক্যাপসুল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন ৪৯৪ জন টিকাদান কর্মী ও ২ হাজার ১৭৪ জন স্বেচ্ছাসেবী। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, প্রতিটি কেন্দ্রেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শিশুদের সুস্থ বিকাশ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জেলার কোনো শিশুই যেন এ সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছি। অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যদিকে, জেলার শ্রীপুর উপজেলায় মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৩০০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ১৪ হাজার ৮০০ এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১ লাখ ১৫ হাজার ৫০০ শিশু রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শ্রীপুরের ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ২১৮টি কেন্দ্রে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ২১৬টি অস্থায়ী কেন্দ্র এবং দুটি অতিরিক্ত কেন্দ্র। এ কর্মসূচির জন্য ১৫ হাজার নীল ও ১ লাখ ১৬ হাজার লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল মজুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ২৭ জন প্রথম সারির সুপারভাইজার সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। শ্রীপুর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্কুল, কমিউনিটি ক্লিনিক, ব্যক্তিগত বাসভবন ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।এছাড়া মাওনা চৌরাস্তা ফ্লাইওভারের নিচে, শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন এবং আল-আরাফ হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত কেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে, যাতে কোনো শিশুই সেবা থেকে বাদ না পড়ে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দিতে রাজি না হলেও প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেন।গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, "জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শিশুদের সুস্থ, সুন্দর ও মেধাবী ভবিষ্যৎ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এই কর্মসূচি শতভাগ সফল করতে জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, রাতকানা প্রতিরোধ, স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি এবং দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে নির্ধারিত সময়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি।