গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের মনিপুর বিটের আওতাধীন হোতাপাড়া ফুয়াং টাইলস মডেল স্কুল সংলগ্ন বন বিভাগের ৪২৪ নম্বর দাগভুক্ত সরকারি বনভূমি দখল করে অবৈধভাবে রাস্তা নির্মাণ এবং একই বনভূমির ওপর দিয়ে খাল কেটে অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য পানি নিষ্কাশনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সুলতানা ডাইং-এর বিরুদ্ধে।স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটিতে উৎপাদিত শিল্পবর্জ্য যথাযথভাবে ইটিপির (Effluent Treatment Plant) মাধ্যমে পরিশোধন না করে সরাসরি বনভূমি, ড্রেন ও আশপাশের জলাশয়ে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এতে পানি ও মাটির দূষণ, তীব্র দুর্গন্ধ,
কৃষিজমির ক্ষতি, জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ঘটনাস্থলের একেবারেই পাশে অবস্থিত ফুয়াং টাইলস মডেল স্কুল, যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য কোমলমতি শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দূষিত পরিবেশ ও বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে শিশুদের শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ, পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বন বিভাগের সরকারি জমি ব্যবহার করে সুলতানা ডাইংয়ের জন্য অবৈধভাবে রাস্তা নির্মাণ করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে বনভূমির ওপর দিয়ে ডেন কেটে কারখানার অপরিশোধিত ও দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পরিবেশ ও বনভূমির ক্ষতি করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের মনিপুর বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, "আমি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বন আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ, বনভূমির শ্রেণি পরিবর্তন, ডেন কেটে অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য নিঃসরণ রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। তারা বলেন, এসব কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বনভূমি দখলের প্রবণতাও বৃদ্ধি পাবে। পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, বনভূমি দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কিংবা শিল্পবর্জ্য দ্বারা পরিবেশ দূষণ বন আইন ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-এর পরিপন্থী। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জরিমানা, স্থাপনা অপসারণ এবং অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধভাবে নির্মিত রাস্তা ও খাল অপসারণ, বনভূমি পুনরুদ্ধার এবং অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য নিঃসরণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান সুলতানা ডাইংয়ের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে