বন রক্ষার দায়িত্ব যাদের ওপর, তাদেরই নিয়ন্ত্রণাধীন বনভূমির ভেতর ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের তালতলী পূর্বপাড়া এলাকায় ভাওয়াল রেঞ্জের বিকি বাড়ি বিটের গজারি বনের ভেতর দেখা গেছে ময়লার স্তূপ। এতে বনভূমির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। বিষয়টি নিয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, তালতলী পূর্বপাড়ায় সাবেক মফি মেম্বারের বাড়ির উত্তর-পূর্ব পাশে গজারি বনের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়েছে। গাছপালার মাঝেই এসব বর্জ্য জমে রয়েছে। ফলে বনভূমির একটি অংশ ধীরে ধীরে ময়লা ফেলার স্থানে পরিণত হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়। পাশেই বিমানবাহিনীর এলাকা, বিচরণ বন্যপ্রাণীর ময়লা ফেলার স্থানটির আশপাশেই রয়েছে বিমানবাহিনীর এলাকা।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই এলাকার বনাঞ্চল ও আশপাশে বানরসহ বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখির বিচরণ রয়েছে। দীর্ঘদিনের বনভূমি ও গাছপালাকে কেন্দ্র করে এসব বন্যপ্রাণী সেখানে আশ্রয় ও খাদ্য সংগ্রহ করে থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বনাঞ্চলের স্বাভাবিক পরিবেশ ও খাদ্যের সংকট তৈরি হওয়ায় বানরগুলোকে মাঝেমধ্যে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ের দিকে চলে আসতে দেখা যাচ্ছে। এতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কাও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বনভূমির পরিবেশ নষ্ট হলে বন্যপ্রাণী তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ও খাদ্যের উৎস হারিয়ে লোকালয়ে চলে আসতে পারে।এতে একদিকে বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে, অন্যদিকে মানুষও বিড়ম্বনায় পড়তে পারে। বনভূমিতে ময়লা, প্রশ্নের মুখে নজরদারি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—বন বিভাগের আওতাধীন গজারি বনের ভেতরে ময়লার স্তূপ তৈরি হলো কীভাবে? নিয়মিত নজরদারি ও টহল থাকলে বনভূমির ভেতর এভাবে ময়লা ফেলার সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।বনভূমি শুধু গাছপালার জায়গা নয়; এটি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানে প্লাস্টিক, পচনশীল বর্জ্যসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা ফেলা হলে মাটি ও পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর খাদ্য ও আবাসস্থলও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রেঞ্জ কর্মকর্তার বক্তব্য বিষয়টি নিয়ে গাজীপুর ভাওয়াল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল-এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে জানি না। আমি বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। ঘটনাটি সত্যি হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। রেঞ্জ কর্মকর্তার বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে—যে বনভূমিতে বন্যপ্রাণীর বিচরণ রয়েছে, সেখানে ময়লার স্তূপ তৈরি হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের নজরে এলো না কেন? দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাড়তে পারে মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত সচেতন এলাকাবাসীর দাবি, বনভূমি থেকে দ্রুত ময়লা-আবর্জনা অপসারণের পাশাপাশি কারা সেখানে ময়লা ফেলছে তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বনভূমির ভেতরে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সেখানে বর্জ্য ফেলতে না পারে। বিশেষ করে আশপাশে বানরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর বিচরণ থাকায় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বন্যপ্রাণী খাদ্য ও আশ্রয়ের সংকটে লোকালয়ে চলে এলে মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত বাড়তে পারে। তাই সমস্যাটি বড় হওয়ার আগেই বন বিভাগকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বনভূমি রক্ষায় শুধু গাছ সংরক্ষণ করলেই হবে না; বনভূমির পরিবেশ, খাদ্যচক্র ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলও রক্ষা করতে হবে। তাই গজারি বনের ভেতর ময়লার ভাগাড় তৈরির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, বর্জ্য অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। এখন দেখার বিষয়—সরেজমিনে দৃশ্যমান ময়লার ভাগাড় অপসারণ এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষায় বন বিভাগ কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়