হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপাল। ২৬ আগস্ট ভোতে কোশি নদীর ভয়াবহ বন্যার পর দেশটির রসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিংসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ দেখা দিয়েছে।এখনো চলছে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান।নেপাল সরকারের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বন্যা ও ভূমিধসে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২৮৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫ হাজার ৮৩ জন, যাদের মধ্যে প্রায় ৬০০ জন বিদেশি নাগরিক। এ ছাড়া ১৩ হাজার ৯৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যার পানির তোড়ে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা এবং একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দেশটির অবকাঠামো ও বিভিন্ন খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৮৭ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন নেপালি রুপি, যা প্রায় ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। তবে ভয়াবহ এই পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধার অভিযানে মিলেছে আশার খবর। ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেল থেকে নয় দিন আটকে থাকার পর দুই কর্মীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের উদ্ধার ঘিরে স্বজন ও উদ্ধারকারীদের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপাল সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী ও বিশেষজ্ঞ দলও অভিযানে সহযোগিতা করছে। ভারত ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী ও উদ্ধার সহায়তা পাঠিয়েছে। এদিকে বন্যার ক্ষতিপূরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানা খবর ছড়িয়ে পড়লেও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিসির খানাল ৪ সেপ্টেম্বর স্পষ্ট করেছেন, ভারত, চীন বা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নেপাল সরাসরি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেনি। নেপাল সরকার জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধান, মরদেহ শনাক্তকরণ, দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজদের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব আরও পরিবর্তিত হতে পারে