দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই প্রকল্পের পাওনিয়ার বেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাওনিয়ার বেজে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে আগুন লাগে।অগ্নিকাণ্ডে সার্ভার, কম্পিউটার, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট কাজ করে। অগ্নিকাণ্ডের পর প্রকল্পের কিছু ভবনে বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হওয়ার তথ্যও এসেছে। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পৃথক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।তবে কিছু প্রতিবেদনে এসব সেবা স্বাভাবিক হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। রূপপুর প্রকল্পের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দুটি ইউনিটে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে এবং বর্তমানে ইউনিট-১-এর কমিশনিং কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পূর্ণমাত্রায় চালু হওয়ার আগে প্রকল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তা, জরুরি বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সার্ভার ও গুরুত্বপূর্ণ নথির সুরক্ষা কতটা নিশ্চিত করা হয়েছে।তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে সরাসরি পারমাণবিক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আগুনটি প্রকল্পের পাওনিয়ার বেজের একটি অংশে ঘটেছে। তাই এ ঘটনায় তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে বা পারমাণবিক চুল্লিতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে—এমন দাবি করার ভিত্তি নেই। তবু রূপপুরের মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থাপনায় এমন ঘটনা হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ভবিষ্যতে পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে অগ্নিনিরাপত্তা, বিকল্প বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা প্রোটোকল কতটা কার্যকরভাবে কাজ করবে—তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনস্বার্থে তাই দাবি উঠছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে রূপপুর প্রকল্পের সার্বিক অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা সম্পর্কে জনগণকে স্পষ্ট তথ্য জানানো হোক। কারণ, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ছোট কোনো ত্রুটিকেও বড় হওয়ার সুযোগ দেওয়া যায় না