দেশে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে ১ হাজার ২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য থেকে জানা গেছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের, আর ৯০২ জনের মৃত্যু সন্দেহজনক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজারে পৌঁছেছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার মানুষ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি, টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন এবং সময়মতো চিকিৎসার আওতায় না আসার কারণে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে সহজেই অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে হাম থেকে নিউমোনিয়া, অপুষ্টি ও অন্যান্য গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, সর্দি ও চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ পরিস্থিতিতে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা, বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনা এবং আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। হামের ভয়াবহ বিস্তার ঠেকাতে টিকাদান ও জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করার দাবি উঠেছে