রাজনীতিতে সুসময়ের নেতা হওয়া খুব সহজ। ক্ষমতার কাছাকাছি দাঁড়িয়ে, সুবিধার সময়ে মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেওয়া কিংবা পদ-পদবির পরিচয় বহন করলেই অনেকে নেতা হিসেবে পরিচিতি পান। কিন্তু রাজনীতির কঠিন পরীক্ষার সময়—যখন সামনে থাকে হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার, জেল-জুলুম ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা—তখন কে পাশে থাকেন, আর কে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান, সেই পরীক্ষাতেই প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয় প্রকাশ পায়।গাজীপুরের বিএনপির রাজনীতিতে ছাত্রজীবন থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দুঃসময়ে দলের পাশে থাকা এমনই এক পরীক্ষিত রাজনৈতিক কর্মী আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন রিজভী। বর্তমানে তিনি গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সদর উপজেলা বিএনপি। দলের কঠিন সময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কারণে তৃণমূলের একটি অংশের কাছে তিনি দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে পরিচিত। যখন রাজনৈতিক মাঠে বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য প্রকাশ্যে সক্রিয় থাকা নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়ার শামিল ছিল, তখনও রিজভী মাঠ ছাড়েননি—এমনটাই দাবি তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের। মামলা কিংবা গ্রেপ্তারের ভয়কে সামনে রেখে রাজনীতি থেকে দূরে সরে না গিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থেকেছেন বলে তারা জানান।সুবিধার রাজনীতি নয়, ত্যাগের রাজনীতি রাজনীতির সবচেয়ে বড় পরিচয় পদ নয়, দুঃসময়ে ভূমিকা। সেই জায়গা থেকেই রিজভীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে মূল্যায়ন করছেন তার অনুসারীরা। তাদের দাবি, বিএনপির জন্য যখন প্রকাশ্যে কাজ করা অনেকের কাছেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তখন রিজভী তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।নতুন কর্মী তৈরি, পুরোনো কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাংগঠনিক কাজ এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে মানুষকে সম্পৃক্ত করার মতো কাজ করেছেন তিনি। তখন বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া অনেকের কাছেই সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। কিন্তু সেই কঠিন সময়েও যারা সংগঠনের সঙ্গে থেকেছেন, তাদের অনেকেই আজ কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত—এমন অভিযোগও রয়েছে তৃণমূলের বিভিন্ন পর্যায়ে। যারা অন্ধকারে ছিলেন, আজ তাদের মূল্যায়নের দাবি রাজনীতিতে সময় বদলায়।সুসময় আসে, দুঃসময়ও আসে। কিন্তু দলের দুঃসময়ে যারা নিজেদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, স্বার্থ ও আরামের কথা না ভেবে সংগঠনের জন্য মাঠে থেকেছেন, তাদের অবদান সময়ের সঙ্গে মুছে যাওয়ার কথা নয়। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রশ্ন—যারা কঠিন সময়ে দলকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন, তাদের মূল্যায়ন যদি না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে দলের দুঃসময়ে নতুন প্রজন্মের কর্মীরা কীভাবে অনুপ্রাণিত হবে। তাদের মতে, শুধু অর্থ, প্রভাব, পরিচিতি কিংবা সুসময়ের রাজনৈতিক উপস্থিতি দিয়ে নেতৃত্বের মাপকাঠি নির্ধারণ করা হলে ত্যাগী রাজনীতির মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বরং দলের জন্য কে কখন মাঠে ছিলেন, কে কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, কে প্রতিকূলতার মুখে সংগঠনকে ধরে রেখেছেন—সেই ইতিহাসও নেতৃত্ব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তৃণমূলের আস্থার জায়গা আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন রিজভীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তার অনুসারীদের বক্তব্য স্পষ্ট—তিনি কেবল পদ-পদবির রাজনীতি করেননি; বরং দীর্ঘ সময় ধরে সংগঠন ও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছেন।তাদের ভাষায়, মঞ্চের আলোতে দাঁড়িয়ে নেতা হওয়ার চেয়ে অন্ধকার সময়ে দলের পতাকা হাতে রাজপথে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক বেশি কঠিন। সেই কঠিন পথের যাত্রীদেরই দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে যথাযথ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাই এখন আলোচনায় আসছে একটি মৌলিক প্রশ্ন—দলের নেতৃত্ব নির্ধারণে কি শুধু বর্তমান পরিচয় ও অবস্থান দেখা হবে, নাকি দুঃসময়ের ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাসও বিবেচনায় নেওয়া হবে। তৃণমূলের প্রত্যাশা, বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। কারণ দলের কঠিন সময়ে যারা পাশে ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করা মানে শুধু একজন নেতাকে সম্মান দেওয়া নয়—বরং ত্যাগী রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি দলের দায়বদ্ধতা স্বীকার করা। সুসময়ে পাশে থাকা মানুষের সংখ্যা অনেক; কিন্তু দুঃসময়ে দলকে আঁকড়ে ধরে রাজপথে থাকা মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা। আর সেই পরীক্ষিত যোদ্ধাদের একজন হিসেবে তৃণমূলে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন রিজভী