June 15, 2026, 5:40 pm
শিরোনাম:
হোতাপাড়া-পিরুজালী সড়কের বেহাল দশা: উন্নয়নের দাবিতে ক্ষোভ, দুর্ভোগে লাখো মানুষ গাজীপুরে ৩ লাখ ৯৪ হাজার অর্থনৈতিক ইউনিটে কর্মরত ২৫ লাখের বেশি মানুষ শিল্প ও কর্মসংস্থানে দেশের শীর্ষ জেলাগুলোর একটি গাজীপুর গাজীপুরে ৫ একর বনভূমি উদ্ধার, মনিপুর বিটে ৫ হাজার চারা রোপণের কার্যক্রম চলমান ছোট উদ্যোগই একদিন বিশ্ব জয় করে— ডিসি গাজীপুর এমফিল পিএইচডি গবেষণায় শিক্ষকদের আর্থিক সহায়তা বাড়িয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৪ সালের ডিগ্রী (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি শ্রীপুর উপজেলা সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটি গঠন খুলনায় এসএসসি ৮৬ বন্ধুদের আয়োজনে গ্রীষ্মকালীন ফল উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত আমি গেরামের ছেলে, দেন কোদাল দেন- ডিসি গাজীপুর ইনকিলাবের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন: গণমানুষের কণ্ঠস্বরকে অভিনন্দন জানাল মৎস্যজীবী দল

গাজীপুর সদরে ‘সাংবাদিকতা’ এখন ভয় ও চাঁদাবাজির হাতিয়ার: বৃত্তশালী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় নিঃস্ব খেটে-খাওয়া মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুর সদর উপজেলায় সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বনের জমিতে বসবাসরত ভূমিহীন ও খেটে-খাওয়া মানুষের ওপর নির্দয় শোষণ চালিয়ে যাচ্ছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই চক্রের সঙ্গে রয়েছে কিছু তথাকথিত সাংবাদিক, স্থানীয় দালাল, প্রভাবশালী বৃত্তশালী ব্যক্তি এবং বন বিভাগের ভেতরের নীরব সহযোগিতাকারীরা। এলাকাজুড়ে এমন হাজারো পরিবার রয়েছে যারা দিন আনে দিন খায়। অনেকের ঘরের চাল ভাঙা, টিন জংধরা, বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ে। কেউ এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটি বা দুটি টিন কিনে ঘর মেরামতের চেষ্টা করলেই শুরু হয় ভয়াবহ হয়রানি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তথাকথিত সাংবাদিক পরিচয়ধারীরা ক্যামেরা ও মোবাইল হাতে হাজির হয়ে বলেন—অনুমতি ছাড়া কাজ করছেন, নিউজ হবে। এরপর শুরু হয় দরকষাকষি। ৫০০, ১,০০০ কিংবা তারও বেশি টাকা দিলে মুহূর্তেই সব বৈধ হয়ে যায়। আর টাকা দিতে না পারলে ওই ঘর, টয়লেট বা বাথরুমই পরিণত হয় ‘অবৈধ স্থাপনা’য়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চাঁদাবাজি এককভাবে নয়—এটি একটি সিন্ডিকেটভিত্তিক বাণিজ্য। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী বৃত্তশালী ব্যক্তি পর্দার আড়াল থেকে এই চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করেন। দালালরা তথ্য দেয়—কে কখন টিন তুলবে, কে বাথরুম বানাবে। এরপর তথাকথিত সাংবাদিকরা সেখানে গিয়ে হাজির হন। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো—এই চক্র দরিদ্রদের টার্গেট করে। বড় স্থাপনা, প্রভাবশালী দখলদার বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের দিকে তাদের নজর পড়ে না। কারণ সেখানে ভয় আছে, কিন্তু গরিবের ঘরে গেলে ভয় নেই—আছে সহজ আয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, আমরা জানি বন আইনের কথা। কিন্তু একটা টয়লেট ছাড়া মানুষ বাঁচবে কীভাবে? টিন পাল্টালে যদি অপরাধ হয়, তাহলে এই অপরাধের ফাঁসির রায় শুধু গরিবের জন্য কেন সাংবাদিকতা যেখানে জাতির বিবেক, সেখানে এই শ্রেণির কর্মকাণ্ড পুরো পেশাটিকে কলঙ্কিত করছে। প্রকৃত সাংবাদিকরা আজ বিব্রত, অপমানিত ও ক্ষুব্ধ। কারণ কয়েকজন সুবিধাবাদীর কারণে পুরো সাংবাদিক সমাজ প্রশ্নের মুখে। সচেতন মহলের মতে, এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে গাজীপুর সদর উপজেলায় সাংবাদিকতা নামটি মানুষের কাছে আতঙ্কের প্রতীক হয়ে উঠবে। অবিলম্বে এই চক্রের আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও বৃত্তশালী পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। দরিদ্র মানুষের মাথা গোঁজার অধিকার কেড়ে নিয়ে কেউ যদি সাংবাদিকতার মুখোশ পরে চাঁদাবাজি করে—তাহলে সেটি সাংবাদিকতা নয়, সেটি সরাসরি অপরাধ



ফেসবুকে আমরা