গাজীপুরের জয়দেবপুরে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ হামলা, কোপাকুপি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক ব্যক্তি মারাত্মক রক্তাক্ত অবস্থায়সহ মোট তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটে গত ১৪ নভেম্বর ২০২৫, বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে মনিপুর বাজারের পচ্চিম পাশে, এনার্জিপ্যাক সংলগ্ন এলাকায়। ভুক্তভোগী মোঃ শামিম মিয়া (৩৬) লিখিত অভিযোগে জানান, তিনি ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ৫ কাঠা স্বত্বভোগ দখলীয় জমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু একই এলাকার বিবাদীগণ—মোঃ হানিফ (৪০), মোঃ মোহসীন (৪৭), মোঃ মজনু (৪৪) এবং তাদের সহযোগী ১০–১২ জন অজ্ঞাতনামা লোক জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবিসহ বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করে আসছিলেন। ঘটনার দিন ভুক্তভোগী শামিম মিয়া নির্মাণ শ্রমিকসহ জমিতে কাজ করানোর সময় বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বে–আইনী জনতাবদ্ধে আবদ্ধ হয়ে সেখানে অনধিকার প্রবেশ করে নতুন করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ভুক্তভোগীরা এতে অস্বীকৃতি জানালে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে জমির চারপাশের বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন এবং নির্মাণসামগ্রী নষ্ট করে আরও প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি করে। অভিযোগে বলা হয়, বিবাদীরা লোহার রড, এসএস পাইপ ও লাঠিসোটা দিয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে ১ নম্বর বিবাদী বড় ধারালো ছুরি দিয়ে শামিম মিয়ার মাথায় কোপ দিতে চাইলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন এবং এতে তার বাম হাতে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। একই সময়ে ৩ নম্বর বিবাদী হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।শামিম মিয়ার চিৎকারে তার দুই ভাই—মোঃ শাহাজালাল (৪৫) ও মোঃ সোহাগ (২৬)—দৌড়ে আসলে তারাও বিবাদীদের হামলায় আহত হন। আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে হামলাকারীরা ভবিষ্যতে আবার কাজ করলে বা বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে হত্যা করার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত শামিম মিয়া শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন (রেজি: ৮৪৬৫/৯, তারিখ ১৫/১১/২০২৫)। অন্যরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। আহতদের চিকিৎসা শেষে পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করে ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর জয়দেবপুর থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি তদন্ত দিন আছে তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।