জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ২০২৫ উপলক্ষে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) গাজীপুরের কাউলতিয়া ইউনিয়নে আয়োজন করেছে দিনব্যাপী বিনামূল্যে প্রাণিচিকিৎসা ও ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি টিচিং হসপিটাল ও বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে গত ২৭ নভেম্বর সকাল ৯টায় এ মানবিক কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক। সভাপতিত্ব করেন বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. ফারহানা ইয়াসমিন। এছাড়া ভেটেরিনারি টিচিং হসপিটালের পরিচালক প্রফেসর ড. অনুপ কুমার তালুকদার, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও ইন্টার্ন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্যে প্রফেসর ড. অনুপ কুমার তালুকদার কর্মসূচির উদ্দেশ্য তুলে ধরেন এবং কোন কোন রোগের ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে সে বিষয়ে আলোচনা করেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রাণিসম্পদ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তি। আমাদের দায়িত্ব শুধু জ্ঞান দেওয়া নয়, সেই জ্ঞান নিয়ে মাঠে নেমে মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনা। গ্রামীণ প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এরপর একটি ছাগলকে ভ্যাকসিন প্রয়োগের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। দিনব্যাপী এ কার্যক্রমে ইন্টার্ন ডাক্তারদের দল গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি ও খামারে গিয়ে চিকিৎসা সেবা ও ভ্যাকসিন প্রদান করেন। কর্মসূচির আওতায় গরুর তড়কা ও গলা ফুলা রোগ, মুরগির রানীক্ষেত ও পক্স, হাঁসের ডাকপ্লেগ, ছাগলের পিপিআরসহ বিভিন্ন রোগের ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সাধারণ স্বাস্থ্যপরামর্শ, ভিটামিন, কৃমিনাশক ও অন্যান্য ওষুধও বিতরণ করা হয়। সারা দিনে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, কবুতর, বিড়াল, কুকুর ও পাখিসহ মোট ৭৯২টি প্রাণির চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়। স্থানীয় খামারি নজরুল ইসলাম এ ধরনের সেবা কর্মসূচির প্রশংসা করে বলেন, গ্রামের মানুষ এমন মানসম্পন্ন চিকিৎসা সহজে পায় না। গাকৃবির এই উদ্যোগ আমাদের মতো খামারিদের জন্য বড় সহায়তা। সমাপনী বক্তব্যে প্রফেসর ড. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, খামারিদের সেবা দেওয়া আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ। শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের উপকার করাই আমাদের লক্ষ্য।উপস্থিতদের মতে, এই কর্মসূচি শুধু চিকিৎসা সেবাই নয়, বরং স্থানীয় খামারিদের মধ্যে প্রাণির স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধে টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।