রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন কাজে বাধা দেওয়ায় মাটি কাটার যন্ত্র এক্সভেটর (ভেকু) চাপা দিয়ে জুবায়ের আলী (২৫) নামে এক কৃষককে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নের বড় পালশা গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত জুবায়ের আলী ওই গ্রামের রফিজ উদ্দিনের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বড় পালশা গ্রামের আব্দুল মজিদ ওরফে মঞ্জিলের ছেলে আনিসুজ্জামান রহমান বকুল এবং মুনতাজ হাজির দুই ছেলে রুহুল আমিন ও রুবেল হোসেন কৃষি জমিতে এক্সভেটর দিয়ে অবৈধভাবে পুকুর খনন করছিলেন। খবর পেয়ে রাতের দিকে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর খননে বাধা দেন। এ সময় পুকুর খননের সঙ্গে জড়িতরা এক্সভেটর চালককে যন্ত্র চালানোর নির্দেশ দেন। চালক এক্সভেটর চালিয়ে দিলে জুবায়ের আলী নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রাত ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বাবা রফিজ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, বকুল, রুহুল ও রুবেল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা জমির মালিকদের সঙ্গে কোনো কথা না বলেই জোরপূর্বক কৃষি জমিতে পুকুর খনন করছিল। বাধা দিতে গেলে পরিকল্পিতভাবে ভেকু চাপা দিয়ে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধভাবে পুকুর খনন করে আসছিল। মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, প্রশাসনের অনুমতি না নিয়েই রাতের আঁধারে পুকুর খনন করা হচ্ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হেলেনা আক্তার জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে। এ ঘটনায় এক্সভেটর চালক আব্দুল হামিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।