গাজীপুরের ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের লবনদহ নদী আজ ভয়াবহ পরিবেশগত সংকটের মুখে। একদিকে সরকারি উদ্যোগে নদী খনন কার্যক্রম চললেও, অপরদিকে একই নদীতে নিয়মিত গৃহস্থালি বর্জ্য ফেলে সদ্য খননকৃত অংশ ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। বাঘের বাজার–সাফারি পার্ক সড়কে লবনদহ নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজকে কেন্দ্র করেই এই দূষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিন ব্রিজের ওপর থেকে বিভিন্ন এলাকা ও বাজারের ময়লা-আবর্জনা সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে খননের সুফল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতা এই গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহের ঠিকাদারি নিয়েছেন। তারা ঘরে ঘরে গিয়ে ময়লা সংগ্রহ করে প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে মাসিক ৮০ টাকা, ১০০ টাকা কিংবা ২০০ টাকা করে আদায় করছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই সংগৃহীত ময়লাই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে লবনদহ নদীতে ফেলে খাল ভরাট করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, নদী খনন হচ্ছে শুনে আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি, সেই খনন করা জায়গাতেই পরিকল্পিতভাবে ময়লা ফেলে নদী মেরে ফেলা হচ্ছে। এর পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করছে বলেই কেউ মুখ খুলছে না। পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, এটি সরাসরি পরিবেশ আইন ও নদী রক্ষা নীতির পরিপন্থী। সরকারি অর্থ ব্যয়ে নদী খননের পাশাপাশি যদি প্রভাবশালী মহল অবাধে ময়লা ফেলে তা ভরাট করে, তবে তা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ও পরিবেশ ধ্বংসের শামিল। দুঃখজনক হলেও সত্য, এ বিষয়ে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন পরিষদ, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের নীরবতা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে।স্থানীয়রা দ্রুত নদীতে ময়লা ফেলা বন্ধ, অবৈধভাবে ময়লা সংগ্রহ ও ফেলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় লবনদহ নদী অচিরেই দখল ও দূষণের কবলে পড়ে অস্তিত্ব হারাবে এমন আশঙ্কাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে