June 15, 2026, 4:21 pm
শিরোনাম:
হোতাপাড়া-পিরুজালী সড়কের বেহাল দশা: উন্নয়নের দাবিতে ক্ষোভ, দুর্ভোগে লাখো মানুষ গাজীপুরে ৩ লাখ ৯৪ হাজার অর্থনৈতিক ইউনিটে কর্মরত ২৫ লাখের বেশি মানুষ শিল্প ও কর্মসংস্থানে দেশের শীর্ষ জেলাগুলোর একটি গাজীপুর গাজীপুরে ৫ একর বনভূমি উদ্ধার, মনিপুর বিটে ৫ হাজার চারা রোপণের কার্যক্রম চলমান ছোট উদ্যোগই একদিন বিশ্ব জয় করে— ডিসি গাজীপুর এমফিল পিএইচডি গবেষণায় শিক্ষকদের আর্থিক সহায়তা বাড়িয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৪ সালের ডিগ্রী (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি শ্রীপুর উপজেলা সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটি গঠন খুলনায় এসএসসি ৮৬ বন্ধুদের আয়োজনে গ্রীষ্মকালীন ফল উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত আমি গেরামের ছেলে, দেন কোদাল দেন- ডিসি গাজীপুর ইনকিলাবের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন: গণমানুষের কণ্ঠস্বরকে অভিনন্দন জানাল মৎস্যজীবী দল

ভাওয়াল বনে দখল উৎসব: পাকা বাড়ি-দোকানে ভরছে সংরক্ষিত বনভূমি, ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুরের ভাওয়াল রেঞ্জের ভবানীপুর বিট এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে একের পর এক পাকা বাড়ি, দোকানপাট ও ভাড়ার স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন কার্যকর উচ্ছেদ অভিযান না থাকায় দখলদাররা প্রকাশ্যেই বনভূমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছে। পাশাপাশি বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের আওতাধীন ভবানীপুর বিটের বিভিন্ন স্থানে বনভূমি দখল করে বাড়িঘর ও দোকানপাট নির্মাণ করা হচ্ছে। গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকটি বড় স্থাপনা গড়ে উঠেছে। কিছু ক্ষেত্রে বিট অফিস প্রাথমিকভাবে বাধা দিলেও পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে নির্মাণ কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিট অফিসের নিকটবর্তী সিংড়াতলী গেসুর মোড় এলাকার পশ্চিম পাশে সংরক্ষিত বনভূমিতে ছয় রুমের একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন স্থানীয় আতর উদ্দিনের মেয়ের জামাই। গত মাসজুড়ে প্রকাশ্যে নির্মাণ কাজ চললেও বিট অফিসের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।এছাড়া শিরিরচালা এলাকার মালাই অ্যাপারেলস কারখানার পশ্চিম পাশে বনভূমিতে তিন রুমের পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন আবু সাইদের ছেলে। ইতোমধ্যে ওই রুমগুলো ভাড়াও দেওয়া হয়েছে। একই এলাকার পাশেই বনভূমিতে আরেক ব্যক্তির বাড়ি নির্মাণের ঘটনাও দেখা গেছে। মালাই কারখানার দক্ষিণ পাশে সংরক্ষিত বনভূমিতে তিন রুমের একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করে সম্প্রতি ভাড়া দিয়েছেন আমির হোসেন। সেখানে পুকুরের পাশের বনভূমিতে আরও কয়েকটি নতুন রুম নির্মাণের কাজ চলছে। মেম্বারবাড়ী বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে কালভার্টের আগে রাস্তার ধারে বনভূমিতে গত বছর ছয় রুমের একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হুমায়ুন। সম্প্রতি তিনি একই স্থানে দখল সম্প্রসারণ করে আরও ছয় রুমের আরেকটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন।এলাকার চার রাস্তার মোড়ের অদূরে ইসমাইল হোসেনের বাড়ির পাশে বনভূমিতে সম্প্রতি পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন হারুন অর রশিদ। তার বাড়ির উত্তরে বনভূমিতে মোস্তফা তার বোনের জন্য চার রুমের একটি বাড়ি নির্মাণ করছেন। এদিকে ভবানীপুর এলাকার সিএস ১২৫৭ নম্বর দাগের বনভূমি কিনে তিন রুমের পাকা বাড়ি নির্মাণ করছেন বরিশালের আবদুল আজিজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি এর আগেও বনভূমিতে কয়েকটি রুম নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। বানিয়ারচালা এলাকার পাঁচ পীরের মাজারের উত্তরে প্রায় ১৫ শতাংশ সংরক্ষিত বনভূমি কিনে টিনশেড বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন কিশোরগঞ্জের শামীম। গত বছরের ২১ এপ্রিল একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রকাশের পর বিট অফিসের নির্দেশে স্থাপনাগুলো খুলে ফেলা হয়েছিল। তবে প্রায় ১০ মাস পর আবারও গত মাসে সেই স্থাপনা পুনরায় নির্মাণ করে দখল ফিরে পেয়েছেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ জন্য বিট অফিসে দ্বিতীয় দফায় অর্থ লেনদেন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বনভূমি দখলকারীদের কাছ থেকে স্থাপনার ধরন অনুযায়ী ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে এক থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের কথাও শোনা যাচ্ছে। বিট অফিসের পক্ষে বনপ্রহরী শাহজাহান আলী ও মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ লেনদেনের দায়িত্বে রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বনপ্রহরী শাহজাহান আলী তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অপর অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভবানীপুর বিট কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বর্তমানে রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। বনভূমি দখলের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাকে জানানো হলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর জেলার অন্যান্য স্থানের মতো ভবানীপুর বিটেও বনভূমি দখলের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর বন বিভাগ কয়েক দফা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে কয়েক একর বনভূমি উদ্ধার করলেও এখনো বহু অবৈধ স্থাপনা বহাল রয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী সংরক্ষিত বনভূমি দখল, স্থাপনা নির্মাণ বা পরিবেশ বিনষ্ট করা একটি গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের জন্য কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকায় দখলদাররা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। পরিবেশ কর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই বিভাগীয় কার্যালয়ে একই কর্মচারীদের অবস্থান করার ফলে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে আঁতাতের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বনভূমি দখল, স্থাপনা নির্মাণ ও বন উজাড়ের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। পরিবেশ সচেতন মহলের সতর্কবার্তা, এখনই যদি অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা ও ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা না করা হয়, তাহলে ভাওয়াল বনের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে এবং গাজীপুরের পরিবেশের জন্য তা মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।



ফেসবুকে আমরা