October 29, 2026, 8:22 am
শিরোনাম:
উপাচার্যের সঙ্গে ক্লাব প্রতিনিধিবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গাজীপুরে গ্রীন হাসপাতালে নবজাতকের বিশেষ পরিচর্যা ইউনিট উদ্বোধন বন ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি রাব্বি ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপির সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, উদ্বোধন করেন রুহুল কবির রিজভী ভাওয়াল রাজদিঘীসহ গাজীপুরের সব খাস পুকুর উদ্ধারের দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ, সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক জুরাইন ও হাতিরঝিলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মৎস্যজীবী দল নেতৃবৃন্দ বৃহত্তর গাজীপুরে আধুনিক ডেন্টাল চিকিৎসাসেবার নতুন ঠিকানা ‘ডেন্টাল হ্যাভেন’ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও শিশুদের জন্য বিশেষ প্লেগ্রাউন্ড বনানীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের নেতারা গাজীপুরে অসচ্ছল নারীদের মধ্যে জেলা পরিষদের ৭৩টি সেলাই মেশিন বিতরণ

শ্রীপুরের রাথুরা বিটে মাটি কাটার মহোৎসব: বন আইন লঙ্ঘন, পরিবেশ ধ্বংসে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাথুরা বিট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিনই ড্রাম ট্রাক ও ভেকু মেশিন দিয়ে বনাঞ্চল ও সংলগ্ন এলাকা থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাথুরা বিট কর্মকর্তা শেখ এমদাদ হোসেন জানান, তিনি একাধিকবার এ কার্যক্রম বন্ধের চেষ্টা করেছেন। আমি কয়েকবার বাধা দিয়েছি, এমনকি রাস্তা বন্ধ করতে খুঁটি দিয়ে বেড়া দিয়েছি। কিন্তু তারা সেই খুঁটি তুলে ফেলেছে এবং আমাদের ওপর হামলাও করেছে। বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি,—বলেন তিনি। এ বিষয়ে শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মোখলেছুর রহমান, তথ্য দৃষ্টি কে বলেন আমি কয়েকবার ঘটনাস্থলে গিয়েছি, কিন্তু কাউকে পাইনি। তাদের অনেক সোর্স রয়েছে, আমরা যাওয়ার আগেই তারা খবর পেয়ে যায়। তারপরও আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, তারা যদি মাটি না কাটে, তাহলে বন বিভাগের রাস্তা ব্যবহার করার প্রয়োজনই হবে না। অন্যদিকে, এলাকাবাসীর দাবি ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, প্রতিদিনই  মঞ্জু’ নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে ড্রাম ট্রাক ও ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিট কর্মকর্তা শেখ এমদাদ হোসেনের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে তরুবীথি পিকনিক স্পট এলাকা থেকে এই মাটি কাটা হচ্ছে। তবে অভিযুক্ত মঞ্জুর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে জমির শ্রেণি পরিবর্তন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বন আইন, ১৯২৭ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী বনাঞ্চল ও সংরক্ষিত এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রম গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী কৃষিজমির মাটি ব্যবহার করে ইট প্রস্তুত করাও দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে জরিমানা, কারাদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তবুও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর তদারকি না থাকায় এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে নির্বিচারে মাটি কাটার ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, বনাঞ্চল ধ্বংস হচ্ছে এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। পাশাপাশি ধুলাবালি ও পরিবেশ দূষণের কারণে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরব ভূমিকা ও দুর্বল তদারকির কারণেই এ ধরনের পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড বেড়েই চলেছে। কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি এলাকাবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে এই অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং বন ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, প্রশাসন যদি এখনই কঠোর না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এই ক্ষতি আর কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব হবে না।



ফেসবুকে আমরা