ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান–এর অভ্যন্তরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বিনা অনুমতিতে ময়লা-আবর্জনার ডাম্পিং জোন স্থাপন ও শেড নির্মাণের কার্যক্রম বন্ধে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জারি করা মন্ত্রণালয়ের স্মারকে জানানো হয়, জাতীয় উদ্যানের সীমানার ভেতরে অবৈধভাবে শেড নির্মাণ, বালি ও মাটি ভরাট, এমনকি আগুন জ্বালানোর মতো কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যা দেশের প্রচলিত বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সূত্র মতে, গত ১১ এপ্রিল গাজীপুর ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান এলাকায় কিছু ব্যক্তি টিন ও বাঁশ দিয়ে শ্রমিকদের জন্য শেড নির্মাণ শুরু করলে বন বিভাগের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেন। পরদিন ওই অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হলেও, ১৩ এপ্রিল পুনরায় কোর জোনের সীমানা প্রাচীর ভেঙে বনের জমিতে বালি ভরাট, গভীর নলকূপ স্থাপন এবং নতুন শেড নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব কার্যক্রমে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ’ জড়িত বলে জানা গেছে। বন অধিদপ্তর বিষয়টি সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা কাজ বন্ধে অনীহা প্রকাশ করে এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ছাড়া কাজ বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে জানায়। মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকা জাতীয় উদ্যানের ‘কোর জোন’-এর অন্তর্ভুক্ত, যেখানে এ ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। “বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬” এবং “বন আইন, ১৯২৭” অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ড দণ্ডনীয় অপরাধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় উদ্যানে ময়লার ডাম্পিং জোন স্থাপন করা হলে তা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করবে। শিল্প বর্জ্য, হাসপাতালের বর্জ্য, প্লাস্টিক ও বিষাক্ত পদার্থের কারণে বায়ু ও মাটির দূষণ বৃদ্ধি পাবে এবং বন্যপ্রাণীর অস্তিত্ব ঝুঁকির মুখে পড়বে। একইসঙ্গে এসব বর্জ্য থেকে রোগজীবাণু ছড়িয়ে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়তে পারে।
এছাড়া বনভূমির ভেতরে গভীর নলকূপ স্থাপন করলে পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে আশপাশের বৃক্ষরাজির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এ প্রেক্ষিতে, পরিবেশ রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে উক্ত এলাকায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সকল ধরনের ডাম্পিং ও নির্মাণ কার্যক্রম অনতিবিলম্বে বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
চিঠির অনুলিপি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।