গাজীপুর সদর উপজেলার হোতাপাড়া থেকে পিরুজালী পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির করুণ অবস্থা এখন এলাকাবাসীর নিত্যদিনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মনিপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে মনিপুর, পিরুজালী, ফুলবাড়িয়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার লাখো মানুষ এবং অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। শিল্পাঞ্চল হওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিককে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের খানাখন্দগুলো পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা তা বোঝার উপায় থাকে না। প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহন। এ সড়ক দিয়েই দেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিবিজড়িত নুহাশপল্লীতে যেতে হয়। পাশাপাশি কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকায় যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ এটি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের এমন বেহাল চিত্র সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতারই প্রমাণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। মনিপুর এলাকার একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের সময় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির শেষ থাকে না, কিন্তু জনগণের ভোগান্তি দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। বছরের পর বছর ধরে রাস্তার এই দুর্দশা দেখেও কর্তৃপক্ষ নীরব রয়েছে।
আরেক বাসিন্দা বলেন, এটি শুধু একটি রাস্তা নয়, হাজারো শ্রমিক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। অথচ মনে হচ্ছে রাস্তার দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। ফলে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের সংস্কার কেন বছরের পর বছর ঝুলে থাকবে? এলাকাবাসী গাজীপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত সড়কটি সংস্কারের মাধ্যমে লাখো মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা হোক এবং নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। স্থানীয়দের ভাষায়, শিল্পাঞ্চলের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে আগে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের কষ্ট আর কতদিন উপেক্ষিত থাকবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।