গাজীপুরের ভাওয়াল রেঞ্জের ভবানীপুর বিট এলাকায় বনভূমি ঘেঁষে মোশাররফ কম্পোজিট নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভবানীপুর মৌজার আরএস ৬৭ দাগের জমিতে নির্মাণকাজ চললেও জমিটির সীমানা নির্ধারণ বা ডিমারকেশনের বিষয়ে সরকারি নথিতে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে ওই জমির চারপাশে বন বিভাগের জমি রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ভবানীপুর মৌজার আরএস ৬৭ দাগের জমির চারদিকে বর্তমানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বাউন্ডারি নির্মাণ শেষ হওয়ার পর সেখানে মোশাররফ কম্পোজিটের মূল শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ শুরু হবে।স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের জমির সঙ্গে লাগোয়া ওই জমিতে সীমানা নির্ধারণের জন্য দৃশ্যমান কোনো সরকারি ডিমারকেশন পিলার বা সীমানা চিহ্ন নেই। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, জমিটির প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ না করেই বনভূমি ঘেঁষে নির্মাণকাজ চলছে কি না। বিশেষ করে বন বিভাগের জমি আরএস ৮৩৬৫ দাগের সঙ্গে লাগোয়া হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।বিষয়টি জানতে মোশাররফ কম্পোজিটের ম্যানেজার অলির সঙ্গে কথা বললে তিনি সাংবাদিকের পরিচয় জানতে চান।পরে তিনি বলেন, ‘আপনি কোন পত্রিকার সাংবাদিক, কোন চ্যানেলের সাংবাদিক? আমার জমিতে আমি বাউন্ডারি করব, কীভাবে করব—তা আপনাকে বলতে হবে?’ একপর্যায়ে তিনি চা খাওয়ার জন্য যাওয়ার কথাও বলেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ভবানীপুর বিট কর্মকর্তা নাসির উদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, খোঁজ নিয়ে দেখব। কিছুক্ষণ পর পুনরায় ফোন করে তিনি দাবি করেন, জমিটি ডিমারকেশন করা হয়েছে। তবে ডিমারকেশনের সরকারি কাগজপত্র ও সংশ্লিষ্ট মামলার নম্বর জানতে চাইলে তিনি তা সরবরাহ করেননি। পরবর্তীতে ভূমি অফিসে খোঁজ নিয়ে ওই জমির ডিমারকেশন সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—জমিটি যদি সত্যিই সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ডিমারকেশন করা হয়ে থাকে, তাহলে তার নথি কোথায় এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে কেন তার কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না? স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের জমির সীমানা নির্ধারণ না করে বনভূমি ঘেঁষে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে বনভূমি দখলের ঝুঁকি আরও বাড়বে। বাউন্ডারি নির্মাণের পর সেখানে শিল্পকারখানার অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হলে বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বনভূমি রক্ষা ও সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণের স্বার্থে জমির প্রকৃত মালিকানা, দাগের সীমানা, বন বিভাগের জমির অবস্থান এবং কথিত ডিমারকেশনের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। বনভূমির সীমানা নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা থাকলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সঠিক জরিপ, রেকর্ড যাচাই ও ডিমারকেশন সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে তথ্য অনুসন্ধানে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, ভবানীপুর থেকে পিংগাইল সড়কসংলগ্ন এলাকায় বনভূমি ঘেঁষে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সুযোগ করে দেওয়ার পেছনে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভূমিকা রয়েছে। এমনকি মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে ভবানীপুর বিট কর্মকর্তা নাসির উদ্দীনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ডিমারকেশনের কাগজপত্র বা মামলার বিস্তারিত তথ্য দেননি। সচেতন মহলের প্রশ্ন—জমিটি যদি বৈধভাবে ডিমারকেশন করা হয়ে থাকে, তাহলে সরকারি নথিতে তার স্পষ্ট প্রমাণ থাকবে না কেন? আর যদি ডিমারকেশন না হয়ে থাকে, তাহলে বনভূমি ঘেঁষে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সুযোগ কীভাবে দেওয়া হলো?
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ভবানীপুর মৌজার আরএস ৬৭ দাগের জমির প্রকৃত মালিকানা, সীমানা, ডিমারকেশন এবং বন বিভাগের জমির সঙ্গে এর অবস্থান যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক