October 29, 2026, 7:51 am
শিরোনাম:
উপাচার্যের সঙ্গে ক্লাব প্রতিনিধিবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গাজীপুরে গ্রীন হাসপাতালে নবজাতকের বিশেষ পরিচর্যা ইউনিট উদ্বোধন বন ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি রাব্বি ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপির সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, উদ্বোধন করেন রুহুল কবির রিজভী ভাওয়াল রাজদিঘীসহ গাজীপুরের সব খাস পুকুর উদ্ধারের দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ, সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক জুরাইন ও হাতিরঝিলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মৎস্যজীবী দল নেতৃবৃন্দ বৃহত্তর গাজীপুরে আধুনিক ডেন্টাল চিকিৎসাসেবার নতুন ঠিকানা ‘ডেন্টাল হ্যাভেন’ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও শিশুদের জন্য বিশেষ প্লেগ্রাউন্ড বনানীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের নেতারা গাজীপুরে অসচ্ছল নারীদের মধ্যে জেলা পরিষদের ৭৩টি সেলাই মেশিন বিতরণ

ভবানীপুর বিটে বনভূমি দখলের ‘মহোৎসব’—বছরের পর বছর অভিযোগ, তবুও নীরব কর্তৃপক্ষ! বিট কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনের দায়িত্বকাল ঘিরে একের পর এক অভিযোগ; গেজেটভুক্ত বনভূমিতে নতুন পাকা স্থাপনা নির্মাণ চললেও ব্যবস্থা কোথায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুরের ভাওয়াল রেঞ্জের ভবানীপুর বিটে বনভূমি দখল ও গেজেটভুক্ত সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ যেন থামছেই না। বছরের পর বছর ধরে একের পর এক দখলের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশ, উচ্ছেদ অভিযান এবং বনভূমি উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হলেও প্রশ্ন উঠেছে—বনভূমি দখল বন্ধ হচ্ছে না কেন? আর দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষই বা নীরব কেন? ভবানীপুর বিটের বনভূমি রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে নানা অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে বিট কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনকে ঘিরে অতীত ও সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বনভূমি দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। তথ্য দৃষ্টি’র অনুসন্ধানে নতুন করে আরও গুরুতর তথ্য সামনে এসেছে। লিথি ফ্যাক্টরির পাশে বনভূমিতে চারটি পাকা রোম নির্মাণ হচ্ছে। অভিযোগ ভবানীপুর বিটের ২ নং খতিয়ানের  সিএস ৩১ নং দাগে বন বিভাগের জমিতে রিয়াজুর নামে এক ব্যক্তি চারটি পাকা রোম নির্মাণ করছেন—এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জায়গাটি বন বিভাগের জমি হিসেবে পরিচিত এবং সেখানে নতুন করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। অভিযোগ রয়েছে, ভবানীপুরের লিথি ফ্যাক্টরির পাশের এলাকায় বনভূমিতে এ নির্মাণকাজ চললেও তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।গেজেটভুক্ত বনভূমিতে সায়েমের তিন পাকা কক্ষ নির্মাণের অভিযোগ অন্যদিকে, ভবানীপুর বিটের আওতাধীন সাবেক ৬৪৯ নম্বর দাগে গেজেটভুক্ত বনভূমিতে মো. সায়েম, পিতা—গফুর হাজী, সাং—বানিয়ারচালা—তিনটি পাকা কক্ষ নির্মাণ করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—গেজেটভুক্ত বনভূমিতে নতুন করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ কীভাবে সম্ভব? নির্মাণকাজ চলাকালে বন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা কি বিষয়টি জানেন না? যদি জেনে থাকেন, তাহলে নির্মাণকাজ বন্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?একের পর এক অভিযোগ, তবুও নীরবতা কেন? ২০১৭ সাল থেকে ভবানীপুর এলাকার বনভূমি দখল নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৮ সালে সরকারি জমি ও বনভূমি নিয়ে শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ভবানীপুরে বনভূমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, বাউন্ডারি নির্মাণ ও রাস্তা তৈরির অভিযোগও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ২০২৫ সালে ভবানীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বনভূমি উদ্ধার এবং বহু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের খবর প্রকাশিত হয়।একই সময়ে বনভূমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগেও বন বিভাগের পক্ষ থেকে কাজ বন্ধ করার কথা বলা হয়। এরপরও যদি একই বিটের বনভূমিতে নতুন করে একের পর এক পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ ওঠে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—উচ্ছেদ অভিযান কি কেবল লোক দেখানো? নাকি একদিকে পুরোনো দখল উচ্ছেদ করা হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন দখলদাররা নির্বিঘ্নে বনভূমিতে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ পাচ্ছেন? তদন্ত না হলে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বনভূমিতে কোনো স্থাপনা একদিনে তৈরি হয় না। পাকা ঘর নির্মাণে দিনের পর দিন নির্মাণসামগ্রী আনা, শ্রমিক নিয়োগ এবং নির্মাণকাজ চলে।তাহলে বন বিভাগের নিয়মিত টহল ও নজরদারি থাকা সত্ত্বেও এসব নির্মাণকাজ কীভাবে চলতে পারে? বনভূমি দখলের অভিযোগ ওঠার পরও যদি কোনো কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেন, তাহলে তার দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। ভবানীপুর বিটে বছরের পর বছর ধরে বনভূমি দখল নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে।কখনো উচ্ছেদ অভিযান হচ্ছে, আবার কিছুদিন পর নতুন করে বনভূমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠছে।এ অবস্থায় শুধু দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা বা উচ্ছেদ অভিযান করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না—দখল কীভাবে হলো, কখন থেকে হলো এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কী ব্যবস্থা নিয়েছিলেন—সেটিও তদন্ত করা জরুরি।কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কি ভবানীপুর বিটের এসব অভিযোগ সম্পর্কে অবগত? যদি অবগত হয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে না কেন? বনভূমিতে নতুন পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ ওঠার পরও যদি কর্তৃপক্ষ নীরব থাকে, তাহলে এই নীরবতা কি দখলদারদের উৎসাহিত করছে না? কেন ভবানীপুর বিটের গত কয়েক বছরের বনভূমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হচ্ছে না? কেন বিট কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনের দায়িত্বকালীন সময়ে বনভূমি দখল ও নতুন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে না? কেন দখলদারদের পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্ত করা হচ্ছে না? এখনই যদি বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভবানীপুর বিটের সিএস ৩১ নম্বর দাগ, সাবেক ৬৪৯ নম্বর দাগসহ অভিযোগে উল্লেখিত বনভূমি সরেজমিনে পরিদর্শন করে সীমানা নির্ধারণ, রেকর্ড যাচাই এবং নির্মাণকাজের বৈধতা পরীক্ষা না করে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় দখল ও স্থাপনা নির্মাণের আশঙ্কা রয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ভবানীপুর বিটের বনভূমি দখল নিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। তদন্তে যদি কোনো দখলদার বনভূমি দখল করে থাকে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বনভূমি রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা দায়িত্বে গাফিলতি করেছেন কি না—তাও তদন্ত করে দেখা হোক। কারণ, বনভূমি দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া যেমন অপরাধকে উৎসাহিত করে, তেমনি দায়িত্বশীলদের নীরবতাও ভবিষ্যতে দখলদারদের জন্য এক ধরনের নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করতে পারে। এ বিষয়ে বিট কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। তথ্য দৃষ্টি’র অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে



ফেসবুকে আমরা