একদিকে মাছের পোনা অবমুক্ত করে দেশীয় মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির উদ্যোগ, অন্যদিকে গাজীপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন বিল-জলাশয়ে নিষিদ্ধ চায়না জাল পেতে ডিম থেকে শুরু করে পোনা ও বড় মাছ পর্যন্ত নির্বিচারে নিধন।যেন এক হাতে মাছ বাঁচানোর আয়োজন, আর অন্য হাতে মাছের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের উৎসব। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের সামনেই বিভিন্ন জলাশয়ে অবৈধ চায়না জাল ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত মাছ শিকার চলছে।এসব জালে শুধু বড় মাছ নয়—আটকা পড়ছে মাছের ডিম, ক্ষুদ্র পোনা, ব্যাঙাচি ও নানা ধরনের জলজ প্রাণী।ফলে মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এর সঙ্গে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে শিল্পকারখানার দূষিত বর্জ্য। গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানার রাসায়নিক ও বর্জ্যপানি বিল-জলাশয়ে গিয়ে পড়ায় অনেক জলাশয়ের পানি দূষিত হয়ে মাছ ও জলজ প্রাণীর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কোনো কোনো দূষিত বিলে মাছ তো দূরের কথা, জলজ পোকামাকড়েরও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন। আর যেসব বিল বা জলাশয়ে এখনও তুলনামূলক পরিষ্কার পানি রয়েছে, সেখানেও বসানো হচ্ছে চায়না জাল। অর্থাৎ দূষণে একদিকে জলজ প্রাণীর মৃত্যু, অন্যদিকে নিষিদ্ধ জালে অবশিষ্ট মৎস্যসম্পদের নির্বিচার নিধন—দুই দিক থেকেই ধ্বংসের মুখে গাজীপুরের জলজ পরিবেশ। প্রশ্ন উঠেছে, পোনা অবমুক্ত করে যদি একই সময়ে ডিম ও পোনা নিধন চলতেই থাকে, তাহলে পোনা অবমুক্তের আয়োজন কি কেবল লোকদেখানো কর্মসূচিতে পরিণত হবে? নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান ও নিয়মিত নজরদারি না থাকলে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে পোনা অবমুক্ত করে কোনো স্থায়ী সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। স্থানীয়রা বলছেন, এখনই নিষিদ্ধ চায়না জাল জব্দ ও ধ্বংস, ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা এবং শিল্পবর্জ্যে জলাশয় দূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নইলে কয়েক বছর পর গাজীপুরের বিল-জলাশয়ে মাছের পরিবর্তে শুধু দূষিত পানি আর ধ্বংসপ্রায় জলজ পরিবেশের চিহ্নই দেখা যাবে। প্রকৃতি ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এখনই প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ জরুরি। নইলে আজ যে পোনা বাঁচানোর কথা বলা হচ্ছে, আগামীকাল সেই পোনার অস্তিত্বই হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না