October 29, 2026, 9:19 am
শিরোনাম:
উপাচার্যের সঙ্গে ক্লাব প্রতিনিধিবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গাজীপুরে গ্রীন হাসপাতালে নবজাতকের বিশেষ পরিচর্যা ইউনিট উদ্বোধন বন ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি রাব্বি ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপির সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, উদ্বোধন করেন রুহুল কবির রিজভী ভাওয়াল রাজদিঘীসহ গাজীপুরের সব খাস পুকুর উদ্ধারের দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ, সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক জুরাইন ও হাতিরঝিলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মৎস্যজীবী দল নেতৃবৃন্দ বৃহত্তর গাজীপুরে আধুনিক ডেন্টাল চিকিৎসাসেবার নতুন ঠিকানা ‘ডেন্টাল হ্যাভেন’ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও শিশুদের জন্য বিশেষ প্লেগ্রাউন্ড বনানীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের নেতারা গাজীপুরে অসচ্ছল নারীদের মধ্যে জেলা পরিষদের ৭৩টি সেলাই মেশিন বিতরণ

ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়ছেই: জমে থাকা পানি, আবর্জনা ও দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বড় ঝুঁকি

তথ্য দৃষ্টি ডেস্ক

দেশজুড়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। বৃষ্টি ও উষ্ণ আবহাওয়া, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি এবং অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে এডিস মশার প্রজননস্থল বাড়ছে।পাশাপাশি খোলা জায়গায় ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা এবং পরিত্যক্ত প্লাস্টিক, বোতল, টায়ার ও বিভিন্ন পাত্রে বৃষ্টির পানি জমে থাকাও পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, এডিস মশা সাধারণত মানুষের বসতবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানির বিভিন্ন পাত্র ও ছোট জলাধারে বংশবিস্তার করে। পরিত্যক্ত পাত্র ও আবর্জনার মধ্যেও বৃষ্টির পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে। ফলে অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে খোলা ড্রেন, নালা, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জায়গা এবং ময়লার স্তূপে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও শিল্পকারখানা বা অন্যান্য উৎসের দূষিত ও রাসায়নিকযুক্ত পানি নদী-নালা ও জলাশয়ে গিয়ে পড়ছে। তবে এসব দূষণকে সরাসরি ডেঙ্গু রোগের কারণ বলা যায় না। কিন্তু অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিত্যক্ত পাত্র ও বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকার সুযোগ তৈরি হলে সেখানে এডিস মশার প্রজননস্থল সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু ফগিংয়ের ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, ড্রেন-নালা পরিষ্কার রাখা, নির্মাণাধীন ভবনে পানি জমতে না দেওয়া এবং বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত মশক জরিপ ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। বাংলাদেশে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত দেশে এ বছর ৪২ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ১১৭ জনের মৃত্যুর তথ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে রয়টার্স।বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার বর্জ্য ও রাসায়নিকযুক্ত পানি নদী-নালা বা জলাশয়ে ফেলার বিষয়েও পরিবেশগত আইন অনুযায়ী কঠোর নজরদারি ও ব্যবস্থা প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এখনই কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে জোর দেওয়া জরুরি। সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমই ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে



ফেসবুকে আমরা