জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর গণপরিবহনে ভাড়া সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের সুযোগে নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্ন উঠেছে গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের হোতাপাড়া–গাজীপুর চৌরাস্তা রুটে। স্থানীয় যাত্রীদের অভিযোগ, হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথে আগে ভাড়া নেওয়া হতো ৩০ টাকা। বর্তমানে অনেক যাত্রীর কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৪০ টাকা। অর্থাৎ এক ধাক্কায় ভাড়া বেড়েছে ১০ টাকা। অন্যদিকে, সরকার নির্ধারিত কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির হিসাবে ১৫ কিলোমিটারে বাড়তি ভাড়া দাঁড়ায় ২ টাকা ৫৫ পয়সা। সে হিসাবে ৩০ টাকা মূল ভাড়ার সঙ্গে ২ টাকা ৫৫ পয়সা যোগ করলে হয় ৩২ টাকা ৫৫ পয়সা। এখানেই যাত্রীদের প্রশ্ন—তাহলে ৩০ টাকা থেকে সরাসরি ৪০ টাকা কেন?তেলের দাম বাড়ল ২০ টাকা, ভাড়া বাড়ল ১০ টাকা?জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ার পর পরিবহন খাতে বাড়তি ব্যয়ের যুক্তি সামনে এসেছে। কিন্তু যাত্রীদের প্রশ্ন, তেলের দাম বৃদ্ধির পুরো চাপ কি গণপরিবহনের যাত্রীদের ওপরই পড়বে? প্রতিদিন হোতাপাড়া থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা, জয়দেবপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় চাকরি, ব্যবসা, শিক্ষা ও শ্রমের প্রয়োজনে হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। তাঁদের অনেকের জন্য প্রতিদিনের যাতায়াত খরচ বাড়া মানে মাস শেষে পরিবারের বাজেটে বাড়তি চাপ। আগে ৩০ টাকা ভাড়ায় যাওয়া-আসায় যেখানে ৬০ টাকা লাগত, এখন ৪০ টাকা করে হলে একই যাত্রায় খরচ দাঁড়াচ্ছে ৮০ টাকা। অর্থাৎ শুধু যাওয়া-আসাতেই প্রতিদিন বাড়তি ২০ টাকা খরচ হচ্ছে। মাসে ২৫ দিন যাতায়াত করলে এই অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৫০০ টাকা। নির্ধারিত ভাড়া কত—যাত্রী জানবে কীভাবে? যাত্রীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে বাসে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করা হয় না। ফলে একজন যাত্রী কত টাকা ভাড়া দেবেন, তা নিয়ে বাসের চালক-হেলপার ও যাত্রীর মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। যাত্রীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত হোতাপাড়া–চৌরাস্তা রুটে সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করা। তাদের বক্তব্য, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে ভাড়া সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু সমন্বয় আর ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়ানো—দুটি বিষয় এক নয়। কর্তৃপক্ষের নজরদারি চান যাত্রীরা নিয়মিত যাত্রীদের দাবি, তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনা করে সরকার যে ভাড়া নির্ধারণ করেছে, পরিবহন মালিকদের তা মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় হচ্ছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেখতে হবে।হোতাপাড়া–চৌরাস্তা রুটের যাত্রীদের প্রত্যাশা—ভাড়া নির্ধারণে স্বচ্ছতা, বাসে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি।কারণ, তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে পরিবহন খরচ বাড়তে পারে—কিন্তু সেই বাড়তি খরচের হিসাব যেন সাধারণ যাত্রীর পকেটেই অস্বচ্ছভাবে চাপিয়ে দেওয়া না হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন