গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নেওয়াকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি, মালামাল পরিবহনে বাধা, ভাঙচুর ও অস্ত্রের মুখে শ্রমিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা তুষার খান ও তাঁর ভাই ইসতিয়াক খানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তুষার খান, ইসতিয়াক খানসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে গাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান।অভিযোগকারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মজিবুর রহমান ২০১৩ সালে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার শরীফপুর এলাকায় নিজের জমিতে ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেন।পরে ভবনটি ‘লুইটেক্স ম্যানুফ্যাকচারিং’ নামের একটি তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার নিয়ন্ত্রণে কারখানাটির ঝুট ব্যবসা পরিচালিত হতো। ওই সময় তুষার খান তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কারখানায় যাতায়াত ও ঝুট ব্যবসার কার্যক্রম দেখাশোনা করতেন বলে দাবি করা হয়েছে। মজিবুর রহমানের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তুষার খান নিজেকে বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা পরিচয় দিয়ে কারখানাটির ঝুট ব্যবসায় একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে কারখানার মালিকপক্ষ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে তুষার খান প্রতি কেজি ঝুটের বিপরীতে তিন টাকা করে চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কারখানার উৎপাদিত মালামাল ও ঝুট পরিবহনে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন মজিবুর রহমান। এ ছাড়া, তুষার খান দলবল নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করে কর্মকর্তাদের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। এ-সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ অক্টোবর ঝুটের মালামাল পরিবহনের জন্য কারখানায় একটি ট্রাক পাঠানো হলে গাছা থানার মালেকের বাড়ি রোডে সেটির গতিরোধ করে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মালামাল নিতে আবারও ট্রাক পাঠানো হলে তুষার খান ও ইসতিয়াক খানের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ট্রাকচালক ও শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় ট্রাকচালকের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে চালক ও শ্রমিকদের সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করা হয় বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। এ ঘটনার পর নিজের ব্যবসা পরিচালনা এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান। তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগের বিষয়ে জানতে তুষার খান ও তাঁর ভাই ইসতিয়াক খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। পুলিশের বক্তব্য গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ব্যবসায়ী মজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি