October 29, 2026, 6:35 am
শিরোনাম:
উপাচার্যের সঙ্গে ক্লাব প্রতিনিধিবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গাজীপুরে গ্রীন হাসপাতালে নবজাতকের বিশেষ পরিচর্যা ইউনিট উদ্বোধন বন ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি রাব্বি ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপির সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, উদ্বোধন করেন রুহুল কবির রিজভী ভাওয়াল রাজদিঘীসহ গাজীপুরের সব খাস পুকুর উদ্ধারের দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ, সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক জুরাইন ও হাতিরঝিলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মৎস্যজীবী দল নেতৃবৃন্দ বৃহত্তর গাজীপুরে আধুনিক ডেন্টাল চিকিৎসাসেবার নতুন ঠিকানা ‘ডেন্টাল হ্যাভেন’ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও শিশুদের জন্য বিশেষ প্লেগ্রাউন্ড বনানীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের নেতারা গাজীপুরে অসচ্ছল নারীদের মধ্যে জেলা পরিষদের ৭৩টি সেলাই মেশিন বিতরণ

সরকারি হাসপাতালে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবার মান, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন মেজবাহ সেলিম। তিনি গুলশান থানা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শত ব্যস্ততার মধ্যেও হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তাঁর এ উদ্যোগ আশাব্যঞ্জক। তবে প্রশ্ন হলো, দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা কি প্রধানমন্ত্রীকে একাই এসে দেখতে হবে?
মেজবাহ সেলিম প্রশ্ন তোলেন, দেশের হাসপাতালগুলো পরিচালনা ও তদারকির জন্য এত কর্মকর্তা, প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং দায়িত্বশীল পদে জনবল নিয়োজিত থাকার পরও কেন সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে? সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যদি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রীকে সরেজমিনে গিয়ে হাসপাতালের বাস্তব চিত্র দেখতে হবে কেন? তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবায় অবহেলা, রোগীদের হয়রানি, ওষুধের সংকট, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি কিংবা দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ থাকলে সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা জরুরি। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে মেজবাহ সেলিমের মতে, হাসপাতালের কোনো অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। কোন পর্যায়ে দায়িত্বে অবহেলা হচ্ছে, কোথায় তদারকির ঘাটতি রয়েছে এবং কেন সমস্যার সমাধান হচ্ছে না—তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।তদন্তে অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতাল পরিচালনায় শুধু নির্দেশনা দেওয়া বা আশ্বাস প্রদানই যথেষ্ট নয়।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা, রোগীদের অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি হাসপাতালের ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ এবং সেবার মান নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে। জনগণের করের টাকায় হাসপাতাল, সেবা পাওয়া জনগণের অধিকার তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতাল পরিচালিত হয় জনগণের করের টাকায়। তাই সাধারণ মানুষ সেখানে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবে—এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা।অসুস্থ মানুষ চিকিৎসার আশায় হাসপাতালে গিয়ে যদি হয়রানি, অবহেলা কিংবা অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির শিকার হন, তাহলে সেই সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, জরুরি রোগীদের দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া, হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেজবাহ সেলিম বলেন, সরকারি হাসপাতাল কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; চিকিৎসাসেবা জনগণের অধিকার, কোনো অনুগ্রহ নয়। দায়িত্বশীল পদে থেকে জনগণের সেবা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্তব্য। তাই দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠলে তা উপেক্ষা না করে যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজন প্রশাসনিক জবাবদিহি তিনি মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ তখনই কার্যকর ফল বয়ে আনবে, যখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, হাসপাতাল প্রশাসন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন। দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহির ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন এবং জনভোগান্তি কমানো সম্ভব। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার দায়ভার কে নেবে? অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত হবে কবে? দায়িত্বে অবহেলাকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে কীভাবে? মেজবাহ সেলিমের বক্তব্য, “আমরা অজুহাত নয়, জবাবদিহি চাই।আশ্বাস নয়, কার্যকর ব্যবস্থা চাই। জনগণের প্রত্যাশা, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং রোগীদের অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কারণ, একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রে চিকিৎসাসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; এটি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন ও অধিকার



ফেসবুকে আমরা