দেশজুড়ে হঠাৎ করেই সিলিন্ডার গ্যাসের ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। কয়েকদিন আগেও যেখানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার ১,২০০ থেকে ১,৩০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছিল, সেখানে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে সেই গ্যাসের দাম লাফিয়ে উঠেছে ২,৫০০ টাকায়। অনেক এলাকায় অতিরিক্ত টাকা দিয়েও মিলছে না গ্যাস—দোকান থেকে দোকানে ঘুরেও ফিরছেন খালি হাতে সাধারণ মানুষ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা—প্রায় সব জায়গাতেই একই চিত্র। কোথাও বলা হচ্ছে “গ্যাস নেই”, আবার কোথাও বলা হচ্ছে “নতুন দাম না দিলে দেওয়া যাবে না”। এই হঠাৎ সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভোক্তারা—এটা কি কৃত্রিম সংকট? নাকি প্রকাশ্য লুটপাট?সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। রান্নার একমাত্র জ্বালানি গ্যাস—তা না থাকলে সংসার চলবে কীভাবে? একজন গৃহিণী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাজারের সব জিনিসের দাম বাড়ছে, এখন রান্নার গ্যাসও যদি এভাবে উধাও হয়, তাহলে আমরা খাব কী? ভোক্তাদের অভিযোগ, এই সংকটের পেছনে রয়েছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট। তারা কৃত্রিমভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখে দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছে। অথচ এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর কোনো তদারকি বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। প্রশ্ন উঠছে—সরকার কি এই সিন্ডিকেটের কাছে অসহায়? নাকি নীরব সমর্থন দিচ্ছে? যদি এভাবে একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম লাগামছাড়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকা কি আদৌ সম্ভব? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবিলম্বে বাজার মনিটরিং জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। পাশাপাশি গ্যাস মজুত, সরবরাহ ও মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। এখন সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন—এই দেশে কি ন্যায্য দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়াটাও বিলাসিতা হয়ে যাবে? সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ক্ষোভ যে আরও বিস্তৃত হবে, তা বলাই বাহুল্য।