গাজীপুরের জয়দেবপুরে চাঞ্চল্যকর ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্র রাহিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভিকটিমের বড় ভাইসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর থেকে নিখোঁজ হয় রাহিম (১৩)। সে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানা এলাকার ডগরী নয়াপাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম কোহিনূরের ছেলে এবং স্থানীয় নয়াপাড়া এবাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। নিখোঁজের ঘটনায় তার বাবা ৩ ফেব্রুয়ারি জয়দেবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১২৫) করেন। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে জয়দেবপুর থানাধীন বিকেবাড়ি পদ্মপাড়া এলাকার বাঁশরী রিসোর্ট-এর দক্ষিণ পাশে বিটিআই গ্রুপের বাউন্ডারি ওয়ালের পশ্চিম পার্শ্বে সরকারি শালবনের ভেতর মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় অর্ধগলিত এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে গিয়ে পোশাক দেখে মরদেহটি নিজের ছেলে রাহিমের বলে শনাক্ত করেন তার বাবা। এ ঘটনায় ২৭ ফেব্রুয়ারি জয়দেবপুর থানায় হত্যা মামলা (নং-২৭) দায়ের করা হয়, পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায়। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই (নিঃ) মোঃ মোজাম্মেল হকের ওপর। পুলিশ সুপার, গাজীপুরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের সনাক্ত করা হয়। পরে ৩ মার্চ ভোর ৪টার দিকে জয়দেবপুর থানাধীন মির্জাপুর এলাকা থেকে রাহিমের বড় ভাই মোঃ আলামিন হোসেন (২৩) ও তার বন্ধু আশিক আহমেদ (২০)-কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।পুলিশ জানায়, মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার দাবিতে রাহিম তার বাবার কাছে বায়না ধরলে বড় ভাই আলামিন ক্ষুব্ধ হয়। ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বন্ধুদের সঙ্গে পরিকল্পনা করে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে গজারী গাছের সঙ্গে মাফলার দিয়ে বেঁধে মুখে স্কচটেপ পেঁচানো হয়। একপর্যায়ে রাহিম বিষয়টি বাবাকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে আলামিন তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং গলা টিপে হত্যা করে। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশেই গর্ত খুঁড়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়। প্রমাণ নষ্ট করতে ভিকটিমের জ্যাকেট বড়চালা তিন রাস্তার মোড়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন