October 29, 2026, 7:06 am
শিরোনাম:
উপাচার্যের সঙ্গে ক্লাব প্রতিনিধিবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গাজীপুরে গ্রীন হাসপাতালে নবজাতকের বিশেষ পরিচর্যা ইউনিট উদ্বোধন বন ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি রাব্বি ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপির সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, উদ্বোধন করেন রুহুল কবির রিজভী ভাওয়াল রাজদিঘীসহ গাজীপুরের সব খাস পুকুর উদ্ধারের দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ, সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক জুরাইন ও হাতিরঝিলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মৎস্যজীবী দল নেতৃবৃন্দ বৃহত্তর গাজীপুরে আধুনিক ডেন্টাল চিকিৎসাসেবার নতুন ঠিকানা ‘ডেন্টাল হ্যাভেন’ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও শিশুদের জন্য বিশেষ প্লেগ্রাউন্ড বনানীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের নেতারা গাজীপুরে অসচ্ছল নারীদের মধ্যে জেলা পরিষদের ৭৩টি সেলাই মেশিন বিতরণ

গাজীপুরের শালদহ বিলে চায়না জালির দৌরাত্ম্য: মা মাছ-পোনা নিধনে হুমকির মুখে মৎস্যসম্পদ, নীরব প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নের শালদহ বিলে অবাধে চলছে নিষিদ্ধ চায়না জালির ব্যবহার।প্রতিদিন মা মাছ, পোনা মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ নির্বিচারে শিকার করা হলেও যেন দেখার কেউ নেই।ফলে বিলের প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকায় অসাধু মাছ শিকারিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগেও শালদহ বিলে চায়না জালির ব্যবহার ও মা মাছ-পোনা নিধনের বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। বরং প্রশাসনের নীরবতাকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র প্রকাশ্যে আইনের তোয়াক্কা না করেই চায়না জালি দিয়ে মাছ শিকার করে যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, চায়না জালি এমন একটি বিধ্বংসী জাল, যেখানে একবার মাছ আটকা পড়লে ছোট-বড়, মা মাছ, পোনা মাছ—কোনোটিই রক্ষা পায় না। এতে শুধু বর্তমানের মাছ নয়, ভবিষ্যতের মৎস্যসম্পদও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই শালদহ বিল থেকেও দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এদিকে শালদহ বিলের আশপাশের অধিকাংশ বিল ও জলাশয় ইতোমধ্যেই শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য পানির কারণে মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে।স্থানীয়দের ভাষায়, অনেক জলাশয়ে এখন মাছ তো দূরের কথা, একটি ছোট জলজ প্রাণীও খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ যে কয়েকটি জলাশয়ে এখনও কিছু দেশীয় মাছ টিকে আছে, সেখানে চায়না জালির অবাধ ব্যবহার সেই শেষ আশাটুকুও ধ্বংস করে দিচ্ছে। সচেতন মহলের দাবি, শালদহ বিলে যদি জেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে, তাহলে অন্তত দুই ট্রাক চায়না জালি জব্দ করা সম্ভব হবে।কিন্তু অজ্ঞাত কারণে দীর্ঘদিন ধরেও এমন কোনো কার্যকর অভিযান পরিচালিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় কাজ করা ব্যক্তিদের মতে, একটি চায়না জালি শুধু মাছ নিধন করে না, এটি একটি বিলের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে। মা মাছ ও পোনা নিধনের মাধ্যমে পুরো জলজ বাস্তুতন্ত্রকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে শালদহ বিলে বিশেষ অভিযান পরিচালনা, নিষিদ্ধ চায়না জালি জব্দ, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য পানি জলাশয়ে ফেলা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়, “এখনই ব্যবস্থা না নিলে একসময়ের মাছে ভরা শালদহ বিল অচিরেই প্রাণহীন জলাশয়ে পরিণত হবে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাজীপুর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।



ফেসবুকে আমরা