October 29, 2026, 9:16 am
শিরোনাম:
উপাচার্যের সঙ্গে ক্লাব প্রতিনিধিবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গাজীপুরে গ্রীন হাসপাতালে নবজাতকের বিশেষ পরিচর্যা ইউনিট উদ্বোধন বন ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি রাব্বি ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপির সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, উদ্বোধন করেন রুহুল কবির রিজভী ভাওয়াল রাজদিঘীসহ গাজীপুরের সব খাস পুকুর উদ্ধারের দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ, সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক জুরাইন ও হাতিরঝিলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মৎস্যজীবী দল নেতৃবৃন্দ বৃহত্তর গাজীপুরে আধুনিক ডেন্টাল চিকিৎসাসেবার নতুন ঠিকানা ‘ডেন্টাল হ্যাভেন’ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও শিশুদের জন্য বিশেষ প্লেগ্রাউন্ড বনানীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের নেতারা গাজীপুরে অসচ্ছল নারীদের মধ্যে জেলা পরিষদের ৭৩টি সেলাই মেশিন বিতরণ

গাকৃবিতে কাঁঠালের বীজ থেকে খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান তৈরির প্রযুক্তি উদ্ভাবন

হাবিবুর রহমান গাজীপুর

এতদিন কাঁঠালের বীজ রান্নাঘর, বাজার কিংবা প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে অবহেলিত বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হতো। সেই বীজই এখন দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা, খাদ্যশিল্প এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) খাদ্য প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক এবং তাঁর স্নাতকোত্তর গবেষক মো. আকরাম হোসেনের যৌথ গবেষণায় কাঁঠালের বীজ থেকে ঘনীভূত খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান (Mineral Concentrate) তৈরির একটি উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে। প্রযুক্তিটি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের পেটেন্ট অর্জন করেছে। গাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি.কে.এম. মোস্তাফিজুর রহমানের সক্রিয় পৃষ্ঠপোষকতায় তিন বছরের গবেষণার মাধ্যমে ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রযুক্তিটি উদ্ভাবিত হয়। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সংখ্যা ২১-এ উন্নীত হয়েছে। এছাড়া ‘গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে পরিবর্তনের পর এটিই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম পেটেন্টপ্রাপ্ত উদ্ভাবন, যা গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম কাঁঠাল উৎপাদনকারী দেশ। তবে বিপুল পরিমাণ কাঁঠাল উৎপাদিত হলেও এর বীজ, খোসা ও অন্যান্য অংশের বড় একটি অংশ বর্জ্য হিসেবে নষ্ট হয়ে যায়। অথচ কাঁঠালের বীজে রয়েছে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খনিজ ও পুষ্টি উপাদান। গবেষণায় দেখা গেছে, শুকনো কাঁঠালের বীজে প্রায় ২ শতাংশ খনিজ উপাদান থাকলেও উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মাধ্যমে তা ঘনীভূত করে ৩৩ শতাংশেরও বেশি খনিজসমৃদ্ধ উপাদান তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ খনিজের ঘনত্ব প্রায় ১৬ থেকে ১৭ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যায়। গবেষণাটি বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গ্র্যান্টস ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন (GARE) প্রকল্পের অর্থায়নে পরিচালিত হয়।পরবর্তীতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (DPDT) প্রযুক্তিটির পেটেন্ট প্রদান করে। এর পেটেন্ট নম্বর PBD/2024/000040।মানবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, হাড় ও দাঁতের গঠন, রক্ত উৎপাদন, স্নায়ুতন্ত্র ও পেশির কার্যক্রম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং বিভিন্ন এনজাইমের কার্যকারিতা বজায় রাখতে খনিজ উপাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, জিঙ্ক ও ম্যাঙ্গানিজের ঘাটতি এখনও দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠীর অপুষ্টির অন্যতম কারণ। গবেষকদের মতে, কাঁঠালের বীজ থেকে প্রাপ্ত এই মিনারেল কনসেনট্রেট বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে ব্যবহার করে অধিক পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব হবে। ফলে এতদিন অবহেলিত কাঁঠালের বীজ একটি উচ্চমূল্য সংযোজিত খাদ্য উপাদানে পরিণত হবে। এটি খাদ্য অপচয় কমানো, কৃষিজ বর্জ্যের কার্যকর ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি.কে.এম. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটি শুধু একটি পেটেন্ট অর্জনের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টি গবেষণার জন্য একটি নতুন মাইলফলক। আমাদের গবেষকরা প্রমাণ করেছেন, কৃষিজ বর্জ্য হিসেবে পরিচিত একটি উপাদানকে কীভাবে উচ্চমূল্যের পুষ্টিসমৃদ্ধ সম্পদে রূপান্তর করা যায়। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবনী গবেষণার পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য গবেষণাগারের উদ্ভাবনকে শিল্প ও সমাজের উপযোগী প্রযুক্তিতে রূপান্তর করে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখা। প্রযুক্তিটির অন্যতম উদ্ভাবক অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক বলেন, কাঁঠালের বীজ থেকে ঘনীভূত খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান তৈরির এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা গেলে দেশে নতুন পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যপণ্য উন্নয়নের পাশাপাশি কাঁঠালভিত্তিক শিল্পের বিকাশ, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিজ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। উল্লেখ্য, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত ৯৭টি উন্নত ফসলের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে



ফেসবুকে আমরা