প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে নিজেকে অবিবাহিত (কুমারী) পরিচয় দিয়ে রাজশাহীর এক শিক্ষিত যুবককে দ্বিতীয়বার বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে বরিশালের শারমিন সুলতানা স্বর্ণা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। শুধু বিয়ের তথ্য গোপনই নয়, দ্বিতীয় স্বামী ও তার পরিবারের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার, শাড়ি ও নগদ অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অভিযুক্ত শারমিন সুলতানা স্বর্ণার বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শারমিন সুলতানা স্বর্ণার প্রথম বিয়ে হয় সাজ্জাদ নামে এক যুবকের সঙ্গে ২০১৫ সালের ২৮ মার্চ। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় এবং বিষয়টি গোপন রেখেই তিনি নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে রাজশাহীর যুবক আদনান শাহনেওয়াজের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়েতে আবদ্ধ হন।পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার মোহাম্মদপুরের ১৩/৪ তাজমহল রোডের একটি বাসায় আদনানকে ডেকে নিয়ে তড়িঘড়ি করে ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ের রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা হয়। বিয়ের আগে শারমিনের পূর্ববর্তী বিয়ের বিষয়ে তারা কোনো তথ্য জানতেন না বলেও দাবি করেছে আদনানের পরিবার। বিয়ের পর শারমিনকে রাজশাহী শহরে নিয়ে সংসার শুরু করেন আদনান। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই তার আচরণ ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয় বলে অভিযোগ। আদনানের পরিবারের আরও অভিযোগ, বিয়ের পরও শারমিন বিভিন্ন যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতেন এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও কল ও কথোপকথন করতেন। এসব বিষয়ে তাদের কাছে ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত রয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবারটি। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর মিষ্টি আচরণ ও কৌশলী কথাবার্তার মাধ্যমে শারমিন তার দ্বিতীয় শাশুড়ি শাহনাজ ইসলামের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে চার ভরি স্বর্ণালংকার ও বেশ কিছু শাড়ি নেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে কৌশলে প্রায় ৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা। আদনানের পরিবারের দাবি, শারমিন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করতেন। কখনো ‘সামান্তা’ নামেও পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, হ্যানিট্র্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন যুবকের সঙ্গে প্রতারণার ঘটনাও ঘটিয়ে থাকতে পারেন তিনি। তবে এসব অভিযোগেরও তদন্তসাপেক্ষে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য জানতে শারমিন সুলতানা স্বর্ণার মা বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদকের সঙ্গে তার যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। হঠাৎ করে প্রথম বিয়ের বিষয়টি জানতে পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন আদনান শাহনেওয়াজ। তার বাবা শাহরিয়ার ইসলাম ও মা শাহনাজ ইসলামের অভিযোগ, তাদের ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিয়ে করা হয়েছে। বর্তমানে মুঠোফোনে তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, অভিযোগের পক্ষে তাদের কাছে প্রথম ও দ্বিতীয় বিয়ের দুটি কাবিননামা, ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে বলে পরিবারটি জানিয়েছে। এদিকে প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে আদনান শাহনেওয়াজ বিভিন্ন স্থানে আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন। তার দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া অর্থ ও স্বর্ণালংকার উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।এ বিষয়ে আইনজীবী রহমান বলেন, প্রথম বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় তা গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কোন আইনে কী শাস্তি প্রযোজ্য হবে, তা মামলার ধরন, প্রমাণ ও তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ থাকায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় কার দায় কতটুকু, তা আইনগতভাবে নির্ধারিত হবে।