গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুরে খাল থেকে সুটকেস ও বস্তাবন্দি অবস্থায় নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুর।পিবিআই জানিয়েছে, নিহত নারীর নাম ডলি আক্তার (৩০)। গত ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসংলগ্ন ভবানীপুর এলাকার হামজা অ্যাপারেলসের উত্তর পাশের খাল থেকে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে তাঁর খণ্ডিত ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর নিহতের পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নামে পিবিআই গাজীপুর। তদন্তের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মিশন ইসলাম (২২), তাঁর মা বানু আক্তার (৪৩) ও বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত ডলি আক্তারের সঙ্গে মিশন ইসলামের প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তী সময়ে বিয়ে ও সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তকারীরা জানান, হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে সেটিকে খণ্ডিত করা হয়। পরে মরদেহের অংশবিশেষ সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ভবানীপুর এলাকার খালে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পিবিআই আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত মিশনের বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে ধারণা করা বটি-দা, স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, নিহত ডলির জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।গ্রেপ্তার তিন আসামিই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। এদিকে, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরলেও এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনের বিস্তারিত বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে