কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট প্রচারের আশঙ্কায় গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সংবাদকর্মী মো. নাঈম। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) শ্রীপুর থানায় করা জিডিতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, হয়রানি এবং সম্ভাব্য হুমকির আশঙ্কা প্রকাশ করে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান। জিডিতে নাঈম উল্লেখ করেন, তার দাবি অনুযায়ী জহিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির প্ররোচনায় ‘মাওনা Anti Corruption BD’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার মতো বক্তব্য বা কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তার অভিযোগ, এ ধরনের প্রচারণার ফলে তার সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হতে পারে।একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বিষয়টি কেন্দ্র করে তাকে হয়রানি, হুমকি কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। জিডিতে নাঈম আরও দাবি করেন, জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নামজারি, টিসিবি কার্ড, জন্মনিবন্ধন ও ভোটার কার্ডের কাজ করে দেওয়ার কথা বলে অর্থ গ্রহণ এবং পরবর্তীতে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে বিরোধের অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তার জানা নেই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে তা যাচাই করা প্রয়োজন বলেও জিডিতে উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া জিডিতে রাজাবাড়ী ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও অ্যাডভোকেট তাহারিম ছাফফাতের করা একটি অভিযোগ এবং সংবাদকর্মী মামুন হোসেনের অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরির বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। নাঈমের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে তার পেশাগত ও সামাজিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তাঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই প্রচারিত কনটেন্ট, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং তার দেওয়া তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।জিডির নথিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্রীপুর থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশনার কথাও উল্লেখ রয়েছে। পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে থানায় ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে AI-নির্ভর কনটেন্ট ব্যবহার করে কারও বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা মানহানিকর প্রচারণা চালানো হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে