October 29, 2026, 5:38 am
শিরোনাম:
উপাচার্যের সঙ্গে ক্লাব প্রতিনিধিবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গাজীপুরে গ্রীন হাসপাতালে নবজাতকের বিশেষ পরিচর্যা ইউনিট উদ্বোধন বন ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি রাব্বি ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপির সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, উদ্বোধন করেন রুহুল কবির রিজভী ভাওয়াল রাজদিঘীসহ গাজীপুরের সব খাস পুকুর উদ্ধারের দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ, সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক জুরাইন ও হাতিরঝিলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মৎস্যজীবী দল নেতৃবৃন্দ বৃহত্তর গাজীপুরে আধুনিক ডেন্টাল চিকিৎসাসেবার নতুন ঠিকানা ‘ডেন্টাল হ্যাভেন’ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও শিশুদের জন্য বিশেষ প্লেগ্রাউন্ড বনানীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের নেতারা গাজীপুরে অসচ্ছল নারীদের মধ্যে জেলা পরিষদের ৭৩টি সেলাই মেশিন বিতরণ

স্বপ্নের চেয়ে জীবন বড়—ডা. মাজহারুল আলমের ‘ঘুম যদি না আসে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঘুম, স্বপ্ন, বাস্তবতা ও জীবনের আনন্দ-বেদনার গভীর অনুভূতিকে কেন্দ্র করে নতুন কবিতা লিখেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ডা. মাজহারুল আলম। ‘ঘুম যদি না আসে’ শিরোনামের কবিতাটিতে নিদ্রাহীন রাতের অনুভূতির সঙ্গে বাস্তব জীবনকে মিলিয়ে মানুষের জীবনবোধের এক ভিন্ন মাত্রা তুলে ধরেছেন কবি।কবিতার শুরুতেই কবি ঘুম না আসাকে নিয়ে এক ধরনের নির্লিপ্ত অথচ গভীর জীবনদর্শনের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তিনি লিখেছেন—ঘুম যদি না আসে, না আসুক! স্বপ্নেরা অজানায় বন্দী থাকুক। ঘুম মানুষের স্বাভাবিক বিশ্রামের সময় হলেও কবির কাছে জেগে থাকা জীবনও এক ধরনের উপলব্ধির জায়গা। তাই নিদ্রাহীনতাকে তিনি শুধু ক্লান্তি বা অস্থিরতা হিসেবে দেখেননি; বরং জেগে থাকা অবস্থায় বাস্তব জীবনকে অনুভব করার সুযোগ হিসেবেও দেখেছেন। কবিতায় স্বপ্নের চেয়ে জীবনের বাস্তবতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন ডা. মাজহারুল আলম। তাঁর ভাষায়—নিদ্রাহীন জীবনেরে ভালবাসি আমি ঘুমের চেয়ে বেশি,
স্বপ্নের চেয়ে জীবন বড়। এই কয়েকটি পঙ্‌ক্তির মধ্যেই কবিতাটির মূল দর্শন অনেকটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মানুষ ঘুমের মধ্যে নানা স্বপ্ন দেখে, কিন্তু বাস্তব জীবনের সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম, আশা-হতাশা এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত জীবনের প্রকৃত অভিজ্ঞতা তৈরি করে—কবিতায় এমন ভাবনারই প্রতিফলন ঘটেছে। কবি আরও লিখেছেন—অনন্ত আকাশ কবিতা লেখে না–
মাটির পৃথিবীতেই বসবাস করি জীবনে। এখানে কল্পনার আকাশের পরিবর্তে বাস্তব পৃথিবীর প্রতি কবির দায়বদ্ধতার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। মানুষের জীবন মাটির পৃথিবীর সঙ্গে যুক্ত। সেই জীবনে যেমন আনন্দ রয়েছে, তেমনি রয়েছে বেদনা, ক্লান্তি, অপেক্ষা ও না-পাওয়ার গল্প। কবি সেই বাস্তবতাকেই অস্বীকার না করে আপন করে নেওয়ার কথা বলেছেন। কবিতার পরবর্তী অংশে আবারও ফিরে এসেছে স্বপ্ন ও নিদ্রাহীনতার প্রসঙ্গ। কবি লিখেছেন—স্বপ্নেরা বন্দী থাকুক অজানায়, ঘুম যদি না আসে কোনোদিন আর নিদ্রাহীন জীবনেরে আপন ভাবি বারবার
আনন্দ বেদনাকে বরণ করি অসীম মরণে। এখানে জীবনের অনিবার্য পরিণতির কথাও কাব্যিকভাবে উঠে এসেছে। সুখ যেমন জীবনের অংশ, তেমনি বেদনাও জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই আনন্দের পাশাপাশি বেদনাকেও গ্রহণ করার মানসিকতার কথা বলেছেন কবি।কবিতার শেষাংশে নিদ্রাহীন রাত এবং ক্লান্ত চোখকে কবিতার উপাদান হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। কবির ভাষায়—অযথাই স্বপ্ন দেখা ঘুমের ঘোরে; নির্ঘুম রাত আর ক্লান্ত চোখের পাতা কোনোদিন যদি লিখি সেই কবিতার খাতা। এই পঙ্‌ক্তিগুলোতে নিদ্রাহীন রাত যেন কবির কাছে একটি সাদা ক্যানভাসের মতো—যেখানে ক্লান্ত চোখ, জেগে থাকা মন এবং জীবনের নানা অনুভূতি একসময় কবিতার ভাষা পেতে পারে। ঘুম যদি না আসে’ তাই শুধু ঘুম না আসার একটি সাধারণ অনুভূতির কবিতা নয়; বরং স্বপ্ন ও বাস্তবতা, আনন্দ ও বেদনা এবং কল্পনা ও জীবনের মধ্যকার সম্পর্ককে উপলব্ধি করার একটি কাব্যিক প্রয়াস।কবিতাটিতে জেগে থাকা জীবনের প্রতি এক ধরনের মমত্ববোধ এবং বাস্তবতাকে গ্রহণ করার মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে। ডা. মাজহারুল আলমের কবিতায় ব্যক্তিগত অনুভূতির পাশাপাশি জীবনকে দেখার একটি দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গিও ফুটে উঠেছে। ঘুমের অন্ধকারে দেখা স্বপ্নের চেয়ে জেগে থাকা জীবনের সত্যকে বড় করে দেখা—এই ভাবনাই ‘ঘুম যদি না আসে’ কবিতার মূল সুর। কবিতা: ঘুম যদি না আসে’ কবি: ডা. মাজহারুল আলম পরিচয়: বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ড্যাবের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা



ফেসবুকে আমরা