October 29, 2026, 7:12 am
শিরোনাম:
উপাচার্যের সঙ্গে ক্লাব প্রতিনিধিবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গাজীপুরে গ্রীন হাসপাতালে নবজাতকের বিশেষ পরিচর্যা ইউনিট উদ্বোধন বন ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি রাব্বি ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপির সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, উদ্বোধন করেন রুহুল কবির রিজভী ভাওয়াল রাজদিঘীসহ গাজীপুরের সব খাস পুকুর উদ্ধারের দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ, সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক জুরাইন ও হাতিরঝিলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মৎস্যজীবী দল নেতৃবৃন্দ বৃহত্তর গাজীপুরে আধুনিক ডেন্টাল চিকিৎসাসেবার নতুন ঠিকানা ‘ডেন্টাল হ্যাভেন’ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও শিশুদের জন্য বিশেষ প্লেগ্রাউন্ড বনানীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের নেতারা গাজীপুরে অসচ্ছল নারীদের মধ্যে জেলা পরিষদের ৭৩টি সেলাই মেশিন বিতরণ

চাটুকারিতার বিষে নয়, দায়িত্বশীল নেতৃত্বেই বাঁচবে দলের মর্যাদা: মেজবাহ সেলিম

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি শুধু আবেগের বিষয় নয়; রাজনীতি হলো দায়িত্ব, বিবেক, প্রজ্ঞা ও বাস্তবতাকে উপলব্ধি করার বিষয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস, ত্যাগ ও সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত বিএনপির মতো একটি দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল, সংযত ও বাস্তবভিত্তিক বক্তব্যই প্রত্যাশিত—এমন মন্তব্য করেছেন গুলশান থানা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ সেলিম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি একজন নেতাকর্মীর বক্তব্যে দায়িত্ববোধ থাকাটাও জরুরি। কারণ একটি বক্তব্য শুধু ব্যক্তির পরিচয় বহন করে না, অনেক সময় সেটি পুরো সংগঠনের ভাবমূর্তির ওপরও প্রভাব ফেলে। মেজবাহ সেলিম বলেন, কাউকে খুশি করার জন্য অতিরঞ্জিত প্রশংসা, ব্যক্তিকেন্দ্রিক আনুগত্য কিংবা চাটুকারিতার আশ্রয় নেওয়া কখনোই সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় হতে পারে না। মুহূর্তের বাহবা পাওয়ার জন্য বলা একটি বক্তব্য হয়তো সাময়িক আনন্দ দিতে পারে, কিন্তু সেই বক্তব্য যদি দলের ভাবমূর্তি ও নেতাকর্মীদের মধ্যে ভুল বার্তা সৃষ্টি করে, তাহলে তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তিনি আরও বলেন, নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ। তবে শ্রদ্ধা যেন কখনো অন্ধ আনুগত্যে পরিণত না হয়। একজন প্রকৃত রাজনৈতিক কর্মীর দায়িত্ব হলো প্রয়োজনের সময় সত্য কথা বলা, ভুল হলে ভুলটি তুলে ধরা এবং দলীয় স্বার্থে গঠনমূলক পরামর্শ দেওয়া। যে সংগঠনে সত্য কথা বলার পরিবেশ থাকে, সেই সংগঠন বাস্তবতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে। আর যেখানে সত্য বলার পরিবর্তে শুধু প্রশংসা ও বাহবা দেওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়, সেখানে ধীরে ধীরে বাস্তবতা আড়ালে চলে যেতে পারে”—যোগ করেন তিনি। মেজবাহ সেলিম বলেন, রাজনীতিতে পদ, পরিচিতি কিংবা সাময়িক প্রভাব কোনো মানুষকে বাস্তবতার ঊর্ধ্বে নিয়ে যায় না। নেতৃত্বের প্রকৃত সৌন্দর্য প্রকাশ পায় বিনয়, দায়িত্ববোধ, মানুষের কথা শোনা এবং সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতায়। অহংকার নয়, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাই একজন রাজনৈতিক নেতার শক্তি হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “বিএনপিকে ভালোবাসেন এমন লাখো নেতাকর্মীর কাছে দলটি শুধু একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নাম নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সংগ্রাম ও মানুষের প্রত্যাশা। তাই ব্যক্তিগত প্রশংসা কিংবা সাময়িক বাহবা পাওয়ার জন্য এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়, যা দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মনে কষ্ট সৃষ্টি করে বা দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে। তিনি আরও বলেন, দলের ভেতরে ভিন্নমত থাকা মানেই দলবিরোধিতা নয়। যুক্তিসংগত মতামত, গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ একটি রাজনৈতিক সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। ব্যক্তিকে বড় করার পরিবর্তে দলীয় আদর্শ, সংগঠন ও জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রাখা প্রয়োজন। মেজবাহ সেলিমের ভাষায়, “ব্যক্তি নয়, দলকে বড় করতে হবে। চাটুকারিতা নয়, সত্যকে জায়গা দিতে হবে। অহংকার নয়, বিনয়কে ধারণ করতে হবে। কারণ দায়িত্বহীন একটি বক্তব্য হয়তো কয়েক মিনিটের, কিন্তু তার ক্ষত অনেক দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তিনি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রত্যেকের বক্তব্যে যেন দায়িত্বশীলতা, শালীনতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার প্রতিফলন ঘটে। দলীয় ঐক্য, মানুষের আস্থা ও সংগঠনের মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে



ফেসবুকে আমরা