October 29, 2026, 5:37 am
শিরোনাম:
উপাচার্যের সঙ্গে ক্লাব প্রতিনিধিবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গাজীপুরে গ্রীন হাসপাতালে নবজাতকের বিশেষ পরিচর্যা ইউনিট উদ্বোধন বন ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি রাব্বি ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপির সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, উদ্বোধন করেন রুহুল কবির রিজভী ভাওয়াল রাজদিঘীসহ গাজীপুরের সব খাস পুকুর উদ্ধারের দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ, সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক জুরাইন ও হাতিরঝিলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মৎস্যজীবী দল নেতৃবৃন্দ বৃহত্তর গাজীপুরে আধুনিক ডেন্টাল চিকিৎসাসেবার নতুন ঠিকানা ‘ডেন্টাল হ্যাভেন’ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও শিশুদের জন্য বিশেষ প্লেগ্রাউন্ড বনানীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের নেতারা গাজীপুরে অসচ্ছল নারীদের মধ্যে জেলা পরিষদের ৭৩টি সেলাই মেশিন বিতরণ

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী সেচ পদ্ধতি, স্মৃতিতে বাঁশের দোন ও ঢেঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক

একসময় গ্রামবাংলার কৃষিজীবনে সেচের অন্যতম ভরসা ছিল বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি দেশীয় প্রযুক্তি। ভোরের আলো ফোটার আগেই কৃষক মাঠে নেমে পড়তেন। খাল-বিল, পুকুর কিংবা নিচু জলাশয় থেকে শারীরিক শ্রমের মাধ্যমে পানি তুলে সেচ দেওয়া হতো ফসলের জমিতে।ছিল না আধুনিক সেচযন্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার; কৃষকের দক্ষতা, পরিশ্রম আর সহজলভ্য উপকরণই ছিল প্রধান অবলম্বন। সময়ের পরিবর্তনে সেই ঐতিহ্যবাহী সেচ পদ্ধতি আজ ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলা থেকে।একসময় বাঁশের তৈরি দোন, দেশীয় পানি তোলার যন্ত্র ও বিভিন্ন কৌশলে জমিতে সেচ দিতেন কৃষকেরা। কোথাও পা দিয়ে চাপ প্রয়োগ করে, আবার কোথাও দুই কৃষক একসঙ্গে কাজ করে নিচু স্থান থেকে উঁচু জমিতে পানি তুলতেন। এসব পদ্ধতি ছিল স্থানীয় উপকরণনির্ভর এবং জ্বালানিচালিত যন্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর একটি উপায়। ছবিতে ফুটে ওঠা সেই দৃশ্য এখনকার প্রজন্মের কাছে অনেকটাই অপরিচিত। একজন কৃষককে পায়ের সাহায্যে বাঁশের তৈরি যন্ত্র চালিয়ে জমিতে পানি দিতে দেখা যায়। অন্য দৃশ্যে দুজন কৃষক একসঙ্গে দোন ব্যবহার করে পুকুর থেকে পানি তুলছেন। ছবিগুলো গ্রামবাংলার কৃষিকাজের পুরোনো দিনের শ্রমনির্ভর বাস্তবতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আধুনিক প্রযুক্তিতে বদলে গেছে সেচব্যবস্থা সময়ের সঙ্গে কৃষিতে এসেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। শ্যালো পাম্প, গভীর নলকূপ, বৈদ্যুতিক মোটর ও অন্যান্য আধুনিক সেচযন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে।অল্প সময়ে বেশি জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হওয়ায় কৃষকেরা এসব প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকেছেন। ফলে অনেক এলাকায় বাঁশের দোন ও অন্যান্য প্রাচীন সেচপদ্ধতির ব্যবহার কমে গেছে। আধুনিক সেচব্যবস্থা কৃষিকাজকে সহজ ও দ্রুত করেছে। তবে এর সঙ্গে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ এবং সেচের খরচের বিষয়টিও জড়িত। অন্যদিকে, প্রাচীন পদ্ধতিগুলোতে তুলনামূলকভাবে বেশি শারীরিক শ্রমের প্রয়োজন হতো এবং সেচের পরিমাণও ছিল সীমিত। ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রয়োজন উদ্যোগ গ্রামবাংলার পুরোনো সেচপদ্ধতিগুলো শুধু কৃষিকাজের উপকরণ নয়, এগুলো আমাদের লোকজ জ্ঞান, গ্রামীণ জীবনযাত্রা ও কৃষি ঐতিহ্যের অংশ। প্রবীণ কৃষকদের অভিজ্ঞতা, পুরোনো যন্ত্রের নমুনা এবং এসব যন্ত্র তৈরির কৌশল সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশের কৃষির বিবর্তন সম্পর্কে জানতে পারবে। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে পুরোনো কৃষিযন্ত্র সংগ্রহ, ছবি ও ভিডিও ধারণ, প্রবীণ কৃষকদের অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করা এবং কৃষি ঐতিহ্যভিত্তিক প্রদর্শনীর আয়োজন করা যেতে পারে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষি জাদুঘরেও এসব ঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার অগ্রযাত্রা থেমে থাকবে না। তবে উন্নয়নের পথে অতীতের মূল্যবান অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যকে ভুলে যাওয়ারও সুযোগ নেই।বাঁশের দোন কিংবা দেশীয় সেচযন্ত্র হয়তো আর আগের মতো মাঠে দেখা যায় না, কিন্তু গ্রামবাংলার কৃষি ইতিহাসে এগুলোর গুরুত্ব আজও অস্বীকার করার উপায় নেই।সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া এসব সেচপদ্ধতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া গেলে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হবে আমাদের কৃষির শিকড়, পরিশ্রমী কৃষকের জীবন এবং গ্রামবাংলার এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের গল্প



ফেসবুকে আমরা