October 29, 2026, 5:37 am
শিরোনাম:
উপাচার্যের সঙ্গে ক্লাব প্রতিনিধিবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গাজীপুরে গ্রীন হাসপাতালে নবজাতকের বিশেষ পরিচর্যা ইউনিট উদ্বোধন বন ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি রাব্বি ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপির সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, উদ্বোধন করেন রুহুল কবির রিজভী ভাওয়াল রাজদিঘীসহ গাজীপুরের সব খাস পুকুর উদ্ধারের দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ, সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক জুরাইন ও হাতিরঝিলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মৎস্যজীবী দল নেতৃবৃন্দ বৃহত্তর গাজীপুরে আধুনিক ডেন্টাল চিকিৎসাসেবার নতুন ঠিকানা ‘ডেন্টাল হ্যাভেন’ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও শিশুদের জন্য বিশেষ প্লেগ্রাউন্ড বনানীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের নেতারা গাজীপুরে অসচ্ছল নারীদের মধ্যে জেলা পরিষদের ৭৩টি সেলাই মেশিন বিতরণ

ভারতে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ তীব্র, ভোটার তালিকা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক

তথ্য দৃষ্টি ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের জেরে রাজধানী নয়াদিল্লিসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করছেন তরুণ আন্দোলনকারী, শিক্ষার্থী, অধিকারকর্মী ও বিরোধী দলের সমর্থকেরা।আন্দোলনকারীরা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। রয়টার্সের ১০ ও ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার ও রোববার নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয়। ১০ অক্টোবর রাজধানীতে দুই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করার কথা জানিয়েছে রয়টার্স।পরে আটক যুব আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকে আদালতের নির্দেশে মুক্তি দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কারণ ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম। বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাঁদের দাবি, এতে প্রকৃত ও যোগ্য ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের এই কার্যক্রমে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়েছে। তবে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার সব ঘটনাকে অবৈধ বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে নিশ্চিত করা যায়নি। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বক্তব্য, মৃত, স্থানান্তরিত এবং খুঁজে পাওয়া যায়নি—এমন ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার কারণেই এই পরিবর্তন হয়েছে। তাঁরা ভোটার তালিকায় কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তা ও আটক বিক্ষোভ ঠেকাতে নয়াদিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১০ অক্টোবর কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয় এবং কয়েকটি মেট্রো স্টেশন ও বাজার বন্ধ ছিল। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশকে আটক করা হয়। ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party—CJP) নামে পরিচিত তরুণদের একটি আন্দোলন এই বিক্ষোভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সংগঠনটির নেতারা নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে জবাবদিহি দাবি করছেন। বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিবাদ নয়াদিল্লির পাশাপাশি মুম্বাই, কলকাতা, পুনে ও পানাজিসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠীও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং যেসব যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে ভোটার তালিকা নিয়ে এই বিতর্ক ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক অধিকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। অন্যদিকে, সরকার ও নির্বাচন কমিশন অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের উদ্দেশ্য হলো তালিকাকে নির্ভুল করা। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ মোদি সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। তবে এই আন্দোলনের ফলে সরকার পরিবর্তন হবে বা মোদি সরকারের পতন ঘটবে—এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো নেই।আন্দোলনের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নির্ভর করবে বিক্ষোভের বিস্তার, সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর



ফেসবুকে আমরা