জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে গাজীপুরে ‘নজরুল বর্ষ-২০২৬’ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও সামিয়া হকের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর গাজীপুর সিটি কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাজহারুল আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি-সাহিত্যিক সংগঠন ‘দশ দিগন্ত’-এর সভাপতি অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নদী কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ার সাদাত। এ ছাড়া জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ও গাজীপুর সাংস্কৃতিক ঐক্যের সভাপতি এম. এ. আশরাফ হোসেন টুলুসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম, সংগীত ও জীবনদর্শনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা নজরুলের সাম্য, মানবতা, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান অতিথি ডা. মাজহারুল আলমের বক্তব্যের মূল ভাবনায় নজরুলের মানবতাবাদী দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত মানুষের মধ্যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতির চেতনা জাগ্রত করতে পারে। নতুন প্রজন্মকে সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি সচেতন, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বানও অনুষ্ঠানের আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহের কবি নন; তিনি শোষিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠারও অনুপ্রেরণা। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আজও অন্যায়, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মানুষকে সাহস জোগায়। তাই নজরুলের আদর্শ ও সাহিত্যচর্চাকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরেন। পাশাপাশি সামিয়া হককে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রতিভা বিকাশ, শিল্পীদের উৎসাহ প্রদান এবং জাতীয় কবির সৃষ্টিকর্মের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে নজরুলের মানবতাবাদী দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং সৃজনশীল সংস্কৃতির বিকাশে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের অনুষ্ঠান গাজীপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং জাতীয় কবির আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সহায়ক হবে