বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত প্রতিনিয়ত প্রকৃতি ও জনগোষ্ঠীর জীবনে ছাপ রেখে চলেছে। এ প্রেক্ষাপটে, খ্রিস্টান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি) এবং গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি)-এর যৌথ উদ্যোগে গতকাল ১৮ অক্টোবর, দুপুরে গাজীপুরের সিসিডিবি
ক্লাইমেট সেন্টার রুমে তিন দিনব্যাপী জলবায়ু অভিযোজন কৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ক হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ” এর প্রথম পর্ব ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাঠ পর্যায়ের কর্মী ও কমিউনিটি প্র্যাকটিশনাররা অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি অভিঘাত মোকাবিলায় বাস্তবভিত্তিক কৌশল ও টেকসই প্রযুক্তির প্রয়োগের সক্ষমতা তৈরি করা। প্রশিক্ষণে উপস্থিত ছিলেন দেশের স্বনামধন্য পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞগণ, যাঁরা পরিবেশবান্ধব কৃষি, মাটি ও জল ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য প্রযুক্তির উপর আলোচনায় অংশ নেন। প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ, রেজিস্ট্রার মোঃ আবদুল্লাহ্ মৃধা, প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মোঃ মিজানুর রহমান এবং সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টারের ইন্টেরিম কো-অর্ডিনেটর কামাল হোসেন। এ সময় গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ড. আফ্রাদ উপস্থাপন করেন ‘কৃষি সম্প্রসারণের মাধ্যমে অভিযোজনের বাস্তবমুখী কৌশল’, ড. সাইফুল আলম আলোচনা করেন ‘জলবায়ু সহনশীল কৃষিতে জৈবসারের গুরুত্ব’ নিয়ে এবং ড. মিজানুর রহমান তুলে ধরেন কার্বন সিকোয়েেস্ট্রশন ও জলবায়ু অভিযোজন-প্রশমন কৌশলসমূহ, বিশেষত মাটি ও ফসল ব্যবস্থাপনার প্রেক্ষাপট। প্রশিক্ষণের এক পর্যায়ে ভাইস-চ্যান্সেলর তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘‘জলবায়ু পরিবর্তন শুধু একটি পরিবেশগত সংকট নয়, এটি টেকসই উন্নয়নের পথে এক বড় চ্যালেঞ্জ। এই প্রশিক্ষণ মাঠ পর্যায়ে বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য একটি কার্যকর পথনির্দেশনা দিচ্ছে। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগের পাশে থাকবে।” প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়, যা তাদের ভবিষ্যৎ অভিযোজন কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে কাজ করবে। উল্লেখ্য যে, সিসিডিবি ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে গ্রামীণ উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্যসেবা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে। একই সাথে জলবায়ু অভিযোজন এবং সহনশীলতা তৈরিতে সংস্থাটি ধারাবাহিকভাবে জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে।