বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর তথাকথিত ‘রিজার্ভ সৈনিকদের’ ভূমিকা ও অবস্থান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান বিভিন্ন মন্তব্য ও চ্যালেঞ্জের জবাবে দলটির তৃণমূল পর্যায়ের একাংশ থেকে এসেছে কঠোর ভাষার প্রতিক্রিয়া, যা ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একজন বিএনপির রিজার্ভ সৈনিকের কথা শিরোনামে প্রকাশিত এক বক্তব্যে মেজবাহ সেলিম নামে এক কর্মী দাবি করেন, বিএনপি কোনো সাময়িক বা দুর্বল রাজনৈতিক শক্তি নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, ত্যাগ এবং জনগণের আস্থার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সংগঠন। তার ভাষায়, বিএনপিকে ৩৬ ঘণ্টায় শেষ করার হুমকি যারা দিচ্ছে, তারা ইতিহাস জানে না। বিএনপি কখনো ভয় পায়নি, ভবিষ্যতেও পাবে না। তিনি আরও বলেন,
বিএনপির রিজার্ভ সৈনিকরা চুপ আছে মানেই শেষ হয়ে যায়নি। এই নীরবতা ঝড়ের আগের প্রস্তুতি। সময় এলে এই শক্তি মাঠে নামবে—আর তখনই হবে হিসাব।
বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, দলের এসব ‘রিজার্ভ সৈনিক’ মূলত সেই কর্মীরা, যারা দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সংগ্রাম করেছেন কিন্তু কোনো পদ-পদবীর সঙ্গে যুক্ত নন। তাদের পরিচয়—ত্যাগ, সাহস এবং অটল বিশ্বাস। মেজবাহ সেলিম আরও কঠোর ভাষায় বলেন, আমরা পদবীর জন্য রাজনীতি করি না, সুবিধার জন্যও না। আমরা লড়াই করি আদর্শের জন্য। আমাদের থামাতে চাইলে ইতিহাস থামাতে হবে—যা কখনো সম্ভব না। তিনি অপপ্রচারকারীদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মিথ্যা, কুৎসা আর ডিজিটাল প্রপাগান্ডা দিয়ে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না। সময় এলে এর জবাব শুধু কথায় নয়—বাস্তবতার মাটিতেই প্রমাণ হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য বিএনপির তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ মনোভাব এবং তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানের একটি ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে ‘নীরব কিন্তু সক্রিয় শক্তি’ হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করা বর্তমান পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। সবশেষে, ওই বক্তব্যে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—বিএনপি রিজার্ভ সৈনিক মানে শুধু একজন কর্মী নয়; এটি একটি শক্তি, একটি বিশ্বাস, একটি প্রস্তুত ইতিহাস—যা সময় এলেই নিজেকে প্রমাণ করে।