ভয় দেখিয়ে বৃদ্ধের জমি লিখে নেয়ার ঘটনায় মামলা হলেও আসামিরা অধরা গাজীপুরের শ্রীপুরে সাহাজ উদ্দিন (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে তুলে নিয়ে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বকভাবে জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বৃদ্ধের মেয়ে সুফিয়া খাতুন গত ৩০ অক্টোবর রাতে পৌর বিএনপি নেতা ও কথিত সাংবাদিকসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে শ্রীপুর থানায় মামলা (নম্বর–৬৬) দায়ের করেন। তবে মামলার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন, ঢাকার বারিধারা দূতাবাস রোড এলাকার মৃত এম এ হাসেমের ছেলে আজিজ আলম কায়সার (৬০), চন্নাপাড়া এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে মো. হলুদ মিয়া (৫০), ভাংনাগাটি গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে দলিল লেখক শহিদুল ইসলাম (৪০), কর্ণপুর এলাকার আব্দুল কাদিরের ছেলে কাউসার (৪০), কাওরাইদ এলাকার আজাহারের ছেলে সোহাগ মিয়া (৪২), চন্নাপাড়া এলাকার ফজলুল হকের ছেলে ওবায়দুল হোসেন (৪৮), শ্রীপুর পৌর বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য টিপু সুলতান (৫০), ফরহাদ (৪০), কেওয়া এলাকার হাসিমের ছেলে সাইফুল (৫০), কেওয়া চন্নাপাড়া এলাকার লব্ধ মিয়ার ছেলে উলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা বাছির (৬০), মো. অলি (৪৩), শ্রীপুর বাজার এলাকার মৃত আমজাত হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে আলম (৫২), আব্দুস সামাদের ছেলে আরফান (৪৫) এবং আশরাফুল আলম সরকার (৪৫)।এদের মধ্যে টিপু সুলতান, ফরহাদ ও আশরাফুল আলম সরকার সাংবাদিকতার আড়ালে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রায় সাত বছর আগে চন্নাপাড়া এলাকার সাহাজ উদ্দিন তাঁর ১০ শতাংশ জমি বিক্রির জন্য স্থানীয় মো. হলুদ মিয়ার সঙ্গে একটি বায়না রেজিস্ট্রি করেন। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী টাকা না পেয়ে তিনি বায়নার টাকা ফেরত দিয়ে জমি ফেরত নিতে চান। এতে হলুদ মিয়া রাজি না হয়ে নানা টালবাহানা করতে থাকে। গত ২৭ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে সাহাজ উদ্দিন চরমোনাই পীরের ওয়াজ মাহফিলে যাওয়ার পথে শ্রীপুর থানার মোড়ে পৌঁছালে অভিযুক্তরা মিলে তাঁকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নেয়। পরে তাঁকে বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে শ্রীপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের জিএস টাওয়ারের পূর্ব পাশে দলিল লেখক শহিদুল ইসলামের অফিসে আটক রাখে।সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে পূর্বের বায়না দলিল বাতিল করে নতুন সাব-কাবলা দলিলে টিপসহি নিতে বাধ্য করা হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাহাজ উদ্দিনকে জোর করে সাবরেজিস্ট্রারের এজলাসে নিয়ে গিয়ে দলিল সম্পাদন করানো হয় (দলিল নম্বর–১২১২০)। সাহাজ উদ্দিন সেখানে জানান, তিনি জমি বিক্রি করেননি, জোর করে টিপসহি নেওয়া হয়েছে এবং তিনি কোনো টাকা পাননি। কিন্তু সাবরেজিস্ট্রার তাঁর বক্তব্য উপেক্ষা করে দলিল সম্পন্ন করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।দলিল সম্পন্নের পর অভিযুক্তরা অফিস থেকে বের হয়ে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে সাহাজ উদ্দিনকে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। অচেতন অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন, পরে চিকিৎসকের পরামর্শে ময়মনসিংহ কমিউনিটি বেইজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ভুক্তভোগী বৃদ্ধের মেয়ে সুফিয়া খাতুন বলেন, ‘আমার বাবার সরলতার সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে জমি আত্মসাৎ করেছে চক্রটি। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আসামিরা হুমকি দিচ্ছে, মামলা তুলে না নিলে আমাদের ক্ষতি করবে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলার পর আসামিদের থানার আশপাশে ঘুরতে দেখা যায়, এমনকি কিছু পুলিশ সদস্যের সঙ্গে চা পান করতেও দেখা গেছে তাদের। এতে থানার ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, ‘ঘটনার পর বৃদ্ধের মেয়ে সুফিয়া খাতুন মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।