ভাওয়াল রেঞ্জ-এর অধিভুক্ত ভবানীপুর বিট এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভবানীপুর ফরিদ মার্কেট থেকে মনিপুর সড়ক ধরে কিছুটা এগিয়ে সড়ক সংলগ্ন পশ্চিম পাশে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহেল নামের এক ব্যক্তি ১০৮০ দাগভুক্ত সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে ভাড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে আধাপাকা টিনসেট তিন রুমের একটি বাড়ি নির্মাণ করছেন। একই স্থানের একটু পূর্ব পাশে জসিম জোলহাসের বোন মর্জিনা ভাড়া দেওয়ার জন্য দুই রুমের একটি পাকা বাড়ির নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে ভবানীপুর বিট অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বন বিভাগের লোকজন ইতোমধ্যে ওই স্থাপনা ভেঙে দিয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ভিন্ন চিত্র উঠে আসে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, বন বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ করে দিয়ে চলে যান। কিন্তু দুদিনের মধ্যেই “বিট অফিস ম্যানেজ” করে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এটা সংরক্ষিত বনভূমি—সবাই জানে। প্রথমে কাজ বন্ধ হয়েছিল, কিন্তু পরে আবার আগের মতো জোরেশোরে কাজ চলছে। এতে বন বিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আরেকজন এলাকাবাসী জানান, এইভাবে একের পর এক বনভূমি দখল হলে ভবিষ্যতে এখানে আর বন বলে কিছু থাকবে না। আইন কী বলছে, বাংলাদেশে সংরক্ষিত বনভূমি দখল ও সেখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বন বিভাগ আইন অনুযায়ী, বন আইন, ১৯২৭-এর ধারা অনুসারে সংরক্ষিত বনভূমিতে অনুমতি ছাড়া বসতঘর বা স্থাপনা নির্মাণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এর জন্য জরিমানা, কারাদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।এছাড়া বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ দখল ও পরিবেশ ধ্বংসের মাধ্যমে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট করা হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, যার মধ্যে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড অন্তর্ভুক্ত। আইন অনুযায়ী বন বিভাগের দায়িত্ব হলো—সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষা করা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা। প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে এই ঘটনায় বন বিভাগের প্রাথমিক তৎপরতার পর পুনরায় নির্মাণকাজ চলতে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল