October 29, 2026, 10:11 am
শিরোনাম:
গাজীপুর সদর হাসপাতালে ছারপোকা, দুর্গন্ধ ও লিফটের ভোগান্তি; উন্নত পরিবেশের দাবি উপাচার্যের সঙ্গে ক্লাব প্রতিনিধিবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গাজীপুরে গ্রীন হাসপাতালে নবজাতকের বিশেষ পরিচর্যা ইউনিট উদ্বোধন বন ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি রাব্বি ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপির সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, উদ্বোধন করেন রুহুল কবির রিজভী ভাওয়াল রাজদিঘীসহ গাজীপুরের সব খাস পুকুর উদ্ধারের দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ, সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক জুরাইন ও হাতিরঝিলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মৎস্যজীবী দল নেতৃবৃন্দ বৃহত্তর গাজীপুরে আধুনিক ডেন্টাল চিকিৎসাসেবার নতুন ঠিকানা ‘ডেন্টাল হ্যাভেন’ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও শিশুদের জন্য বিশেষ প্লেগ্রাউন্ড বনানীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের নেতারা

গাজীপুর সদরে ‘সাংবাদিকতা’ এখন ভয় ও চাঁদাবাজির হাতিয়ার: বৃত্তশালী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় নিঃস্ব খেটে-খাওয়া মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুর সদর উপজেলায় সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বনের জমিতে বসবাসরত ভূমিহীন ও খেটে-খাওয়া মানুষের ওপর নির্দয় শোষণ চালিয়ে যাচ্ছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই চক্রের সঙ্গে রয়েছে কিছু তথাকথিত সাংবাদিক, স্থানীয় দালাল, প্রভাবশালী বৃত্তশালী ব্যক্তি এবং বন বিভাগের ভেতরের নীরব সহযোগিতাকারীরা। এলাকাজুড়ে এমন হাজারো পরিবার রয়েছে যারা দিন আনে দিন খায়। অনেকের ঘরের চাল ভাঙা, টিন জংধরা, বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ে। কেউ এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটি বা দুটি টিন কিনে ঘর মেরামতের চেষ্টা করলেই শুরু হয় ভয়াবহ হয়রানি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তথাকথিত সাংবাদিক পরিচয়ধারীরা ক্যামেরা ও মোবাইল হাতে হাজির হয়ে বলেন—অনুমতি ছাড়া কাজ করছেন, নিউজ হবে। এরপর শুরু হয় দরকষাকষি। ৫০০, ১,০০০ কিংবা তারও বেশি টাকা দিলে মুহূর্তেই সব বৈধ হয়ে যায়। আর টাকা দিতে না পারলে ওই ঘর, টয়লেট বা বাথরুমই পরিণত হয় ‘অবৈধ স্থাপনা’য়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চাঁদাবাজি এককভাবে নয়—এটি একটি সিন্ডিকেটভিত্তিক বাণিজ্য। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী বৃত্তশালী ব্যক্তি পর্দার আড়াল থেকে এই চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করেন। দালালরা তথ্য দেয়—কে কখন টিন তুলবে, কে বাথরুম বানাবে। এরপর তথাকথিত সাংবাদিকরা সেখানে গিয়ে হাজির হন। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো—এই চক্র দরিদ্রদের টার্গেট করে। বড় স্থাপনা, প্রভাবশালী দখলদার বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের দিকে তাদের নজর পড়ে না। কারণ সেখানে ভয় আছে, কিন্তু গরিবের ঘরে গেলে ভয় নেই—আছে সহজ আয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, আমরা জানি বন আইনের কথা। কিন্তু একটা টয়লেট ছাড়া মানুষ বাঁচবে কীভাবে? টিন পাল্টালে যদি অপরাধ হয়, তাহলে এই অপরাধের ফাঁসির রায় শুধু গরিবের জন্য কেন সাংবাদিকতা যেখানে জাতির বিবেক, সেখানে এই শ্রেণির কর্মকাণ্ড পুরো পেশাটিকে কলঙ্কিত করছে। প্রকৃত সাংবাদিকরা আজ বিব্রত, অপমানিত ও ক্ষুব্ধ। কারণ কয়েকজন সুবিধাবাদীর কারণে পুরো সাংবাদিক সমাজ প্রশ্নের মুখে। সচেতন মহলের মতে, এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে গাজীপুর সদর উপজেলায় সাংবাদিকতা নামটি মানুষের কাছে আতঙ্কের প্রতীক হয়ে উঠবে। অবিলম্বে এই চক্রের আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও বৃত্তশালী পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। দরিদ্র মানুষের মাথা গোঁজার অধিকার কেড়ে নিয়ে কেউ যদি সাংবাদিকতার মুখোশ পরে চাঁদাবাজি করে—তাহলে সেটি সাংবাদিকতা নয়, সেটি সরাসরি অপরাধ



ফেসবুকে আমরা