১লা মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস—বিশ্বজুড়ে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও সংগ্রামের এক গৌরবময় দিন। এই দিনটি শুধু ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়; এটি ইতিহাসের পাতায় লেখা শ্রমিকের রক্ত, ঘাম ও ত্যাগের এক অবিনশ্বর স্মারক। আমি একজন শ্রমিক—এটাই আমার গর্ব, এটাই আমার পরিচয়—এই বিশ্বাস বুকে ধারণ করেই প্রতিদিন জীবনের সঙ্গে লড়াই করে চলেন লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষ। তাদের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে নগরসভ্যতা, দাঁড়িয়ে থাকে শিল্পকারখানা, এগিয়ে চলে দেশের অর্থনীতি। তবে বাস্তবতার কঠিন চিত্রও অস্বীকার করার উপায় নেই। শ্রমিকদের এই অবদানের বিপরীতে তারা সবসময় পায় না ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ কিংবা প্রাপ্য সম্মান। তাদের জীবনের প্রতিটি দিন জুড়ে থাকে সংগ্রাম, অনিশ্চয়তা আর বঞ্চনার গল্প। শ্রমিকের ঘামের প্রতিটি ফোঁটা শুধু মাটিকে ভেজায় না—তা একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে। অথচ সেই শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন এখনো অনেক ক্ষেত্রে অধরাই রয়ে গেছে। তাই মে দিবস আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা কতটা দায়িত্বশীল? এই মহান দিনে শুধু শুভেচ্ছা বিনিময় নয়, প্রয়োজন কার্যকর অঙ্গীকার। শ্রমের মর্যাদা রক্ষা, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা এবং শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সকল শ্রমজীবী মানুষের প্রতি। কারণ শ্রমিক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, শ্রমিকের হাত ধরেই গড়ে উঠবে ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। —মেজবাহ সেলিম